ঋণখেলাপিদের তালিকা নিয়ে হাইকোর্টের শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:০৩ এএম, ২৪ জুন ২০১৯

গত ২০ বছরে কোটি টাকার ওপরে ঋণখেলাপিদের তালিকা, কী পরিমাণ ঋণের সুদ মওকুফ করা হয়েছে, ঋণের সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে যে অনিয়ম চলছে তা বন্ধে কী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সেসব তথ্য নিয়ে আজ সোমবার হাইকোর্টের শুনানি হবে।

এর আগে গত ১৬ মে শুনানি শেষে আজ ২৪ জুনর মধ্যে এই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ ব্যাংক আবেদন করার পর হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন মো. মনিরুজ্জামান। রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন মনজিল মোরসেদ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণখেলাপির তালিকা দাখিল না করায় গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে তা দাখিলের নির্দেশ দেন।

ওই দিন শুনানিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী মনিরুজ্জামান আদালতকে বলেন, আইনগতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই তালিকা দাখিল করার ‘এখতিয়ার নেই’।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই বক্তব্যে আপত্তি জানিয়ে রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আদেশ দেয়ার এখতিয়ার রয়েছে হাইকোর্টের।

গভর্নরের প্রতি নির্দেশনা ছিল-

১. কোটি টাকার উপরে ঋণ খেলাপিদের নাম, ঠিকানা, তালিকা আদালতে দাখিল করতে হবে।

২. অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

৩. ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে এবং ঋণের সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে যে অনিয়ম চলছে, তা বন্ধে কী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

এর আগে ব্যাংক খাতে অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, সুদ মওকুফ সংক্রান্ত বিষয় তদন্ত ও সুপারিশ প্রণয়নে কমিশন গঠন করতে গত ২৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট ৫ সচিবসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে উকিল নোটিশ দেয়া হয়। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে নোটিশ পাঠিয়েছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

সাত দিনের মধ্যে কমিশন গঠনের সময় বেধে দিয়ে নোটিশে অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদ মওকুফ সংক্রান্ত বিষয় তদন্ত ও তা বন্ধে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য ১৯৫৩ সালের ইনকোয়ারি কমিশন অ্যাক্টের অধীনে একটি কমিশন গঠন করার অনুরোধ করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে এ নোটিশ পাঠনো হয়।

নোটিশে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, সিটি ব্যাংক এন এ বাংলাদেশের সাবেক সিইও মামুন রশিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিশন গঠন করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। এই অর্থ চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।

এফএইচ/এমএসএইচ