‘বিচারপতিদের মনে ভীতির সঞ্চারে সিনহার বিরুদ্ধে মামলা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১২ এএম, ১২ জুলাই ২০১৯

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে সরকার দুদকের ওপর প্রভাব বিস্তার করে স্বাধীন বিচার বিভাগের গায়ে কালিমা লেপন করেছে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের এনেক্সে ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর মামলাগুলোর রায় সরকারের পক্ষে রাখার জন্য এবং বিচারপতিরা যেন স্বাধীনভাবে রায় প্রদান করতে না পারেন সে লক্ষ্যে বিচারপতিদের মনে ভীতির সঞ্চার করার লক্ষ্যে সরকার/রাষ্ট্রযন্ত্র প্রভাব খাটিয়ে এ মামলা দায়ের করেছে।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এস কে সিনহার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করার লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

উল্লেখ্য, ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এসকে সিনহা) ১১ জনের বিরুদ্ধে বুধবার দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

এস কে সিনহা ছাড়া মামলার বাকি আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

ফারমার্স ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির ‘প্রমাণ’ পাওয়ার কথা গতবছর অক্টোবরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

কথিত ব্যবসায়ী শাহজাহান ও নিরঞ্জন ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে চার কোটি টাকা ঋণ পেয়েছিলেন। সেই টাকা রনজিৎ চন্দ্র সাহার হাত ঘুরে বিচারপতি সিনহার বাড়ি বিক্রির টাকা হিসেবে দেখিয়ে তার ব্যাংক হিসাবে ঢুকেছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে দুদক।

২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। পরে বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন বলে ওই সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এফএইচ/বিএ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]