শ্রম আইনের মামলা

‘মিথ্যা অভিযোগে ড. ইউনূসকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৫২ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০২৩

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘মিথ্যা অভিযোগে’ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) এ মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে আইনজীবী এমন দাবি করেন।

এদিন আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য শ্রম আদালতে হাজির হন ড. ইউনূসসহ মামলার চার আসামি। শুনানিতে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে মামলা থেকে তারা অব্যাহতি চান।

বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টার পর আদালত চত্বরে আসেন ড. ইউনূসসহ মামলার চার আসামি। এরপর তারা শ্রম ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। এসময় ড. ইউনূসের সঙ্গে ছিলেন তার আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তৃতীয় শ্রম আদালতের জেলা ও দায়রা জজ শেখ মেরিনা সুলতানার এজলাস কক্ষে দুপুর ১টার কিছু পরে শুনানি শুরু হয়। এরপর আদালতের এজলাস কক্ষে ড. ইউনূসসহ অন্য তিন আসামি গ্রামীণ টেলিকমের এমডি মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহান কাঠগড়ায় দাঁড়ান।

দুপুর সোয়া ১টার দিকে শারীরিক অসুস্থতা ও বয়স বিবেচনায় আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক চার বিবাদীকেই কক্ষের ভেতরে বেঞ্চে বসে শুনানি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেন।

এসময় ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় ড. ইউনূসসহ চার আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের জবানবন্দিতে বলা হয়, নিঃস্বার্থ মানুষটিকে (ড. ইউনূস) মিথ্যা অভিযোগে আদালতে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৬ নভেম্বর দিন ঠিক করেন আদালত।

আজ এ মামলায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী ও মো. খুরশীদ আলম খান। ড. ইউনূসসহ চার বিবাদীর পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ।

শুনানিতে বিবাদীপক্ষের আইনজীবীরা দেশের উন্নয়নে ড. ইউনূসের ভূমিকা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দেখান, যিনি দেশের জন্য এত কাজ করেছেন। এতগুলো বিদেশি ব্র্যান্ড কোম্পানিকে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে এনেছেন। এত এত মানবসম্পদ তৈরি করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা কোনো কিছুই তিনি নিজের কোনো আর্থিক লাভের জন্য করেননি। এ ধরনের অসংখ্য অবদান রাখার পরও এই নিঃস্বার্থ মানুষটিকে মিথ্যা অভিযোগে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে।

আত্মপক্ষ সমর্থনের আবেদনে বলা হয়, ড. ইউনূস গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান এবং অন্য তিন বিবাদী পরিচালনা বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিয়োজিত আছেন। গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানি আইনের রেজিস্ট্রিকৃত ২৮ ধারায় সৃষ্ট একটি নট ফর প্রফিট কোম্পানি। যার লভ্যাংশ বিতরণযোগ্য নয়। এই লভ্যাংশের অর্থ সামাজিক উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। সে কারণে কোম্পানির কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বা শেয়ারহোল্ডার নেই। বিবাদীদের কেউই শেয়ারহোল্ডার নন। এছাড়া বিবাদীরা শুধু সম্মানজনক পদে থেকে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সহায়তা করেছেন।

গত ২২ আগস্ট ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওইদিন সাক্ষ্য দেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। শ্রমিকদের অংশগ্রহণের তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি।

এর আগে এ মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন ড. ইউনূস। হাইকোর্ট আবেদনটি খারিজ করার পর আপিল বিভাগেও তা বহাল রাখেন।

২০১১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান।

এফএইচ/এমকেআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।