ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এনপিএ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | প্রকাশিত: ০১:১২ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মতো নতুন রাজনৈতিক দল যখন নির্বাচনি জোটে গিয়ে সমালোচনা আর বিতর্কের মুখে তখনই জুলাই শক্তির আরও একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের’ (এনপিএ) আত্মপ্রকাশ ঘটলো। গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া বাম ও মধ্যপন্থি মতাদর্শের তরুণদের নিয়ে গঠিত এই প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করতে না পারলেও তাদের কাজ কি হবে সেটি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তত ২৮টির বেশি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটলো।

এনপিএ, নতুন এই প্ল্যাটফর্মের ৩ মুখপাত্র ও ১০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল ঘোষণা করা হয় গেলো শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি)। তিন মুখপাত্র হলেন ফেরদৌস আরা রুমী, মঈনুল ইসলাম তুহিন (তুহিন খান) ও নাজিফা জান্নাত।

ফেরদৌস আরা রুমী ও তুহিন খান লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট। আর নাজিফা জান্নাত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী।

এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে স্থান পাওয়া ১০১ জনের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সদ্য পদত্যাগকারী চার নেতা রয়েছেন। তারা হলেন এনসিপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায় (ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক), সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব তুহিন খান, সাবেক উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অলিক মৃ, সাবেক কালচারাল সেলের উপপ্রধান সৈয়দা নীলিমা দোলা। এ ছাড়া আছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সাবেক সদস্য সৈয়দ ইমতিয়াজ নদভী।

আরও পড়ুন:

নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‌‘এনপিএ’র আত্মপ্রকাশ

এ ছাড়া, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অলিউর সান, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাকী বিল্লাহ, সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান সভাপতি মেঘমল্লার বসু, সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহসমন্বয়ক নূমান আহমাদ চৌধুরী ও অ্যাক্টিভিস্ট রাফসান আহমেদও আছেন এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে।

‘জনগণের শক্তি, আগামীর মুক্তি’এই স্লোগান সামনে রেখে যাত্রা শুরু করা প্ল্যাটফর্মটি পাঁচটি মূলনীতি ও সাতটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রাণ–প্রকৃতি–পরিবেশের সুরক্ষা তাদের মূলমন্ত্র।

এনপিএ বলছে, দেশের বিদ্যমান শাসনকেন্দ্রিক ক্ষমতাকাঠামো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের পরিবর্তে শাসকগোষ্ঠীর অনুগত করে তুলেছে। ফলে জনগণের রক্ষক প্রতিষ্ঠানগুলোই ক্ষমতাচর্চা ও সম্পদ আহরণের অংশীদার হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের অধিকার রক্ষা ও সেবাভিত্তিক কাঠামোয় রূপান্তর করার উদ্যোগ নেবে প্ল্যাটফর্মটি।

প্ল্যাটফর্মটির সদস্যরা বলছেন, আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের কার্যকর ও পূর্ণ পৃথকীকরণের দাবি তাদের। একই সঙ্গে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে শক্তিশালী, আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং কেন্দ্রের প্রভাবমুক্ত স্থানীয় সরকারব্যবস্থার গুরুত্বারোপ করেন তারা।

তারা বলছেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লুটপাট, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটভিত্তিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে এনপিএ। তাদের লক্ষ্য স্বনির্ভর, উৎপাদনমুখী ও জনকল্যাণভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজ কৃষিঋণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ভর্তুকি প্রদান এবং শিল্প শ্রমিকদের জন্য সম্মানজনক মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বৈষম্য হ্রাস এবং রাষ্ট্রীয় আয় বাড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে।

পরিবেশ ও জলবায়ু সংকট নিয়েও অবস্থান তুলে ধরে প্ল্যাটফর্মটি জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও মেগা প্রকল্প প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নদী দখল, বন উজাড়, দূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার প্ল্যাটফর্মটির।

এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে এনপিএ বলছে, জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করবে। মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি জানমালের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দেন তারা।

এনপিএর সংগঠকরা আরও বলছেন, এনপিএর কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা, সাংস্কৃতিক কর্মী রয়েছেন, তাদের কেউ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে ভাবনা কী এমন প্রশ্নে জাগো নিউজকে জুলাই আন্দোলনের পরিচিত মুখ ও ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান সভাপতি মেঘমল্লার বসু বলেন, আমরা সবেমাত্র একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি। আমরা নিজেদের ফর্ম (গঠন) করতেই বেশি ব্যস্ত থাকবো। তার মাঝে দেশের বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আমাদের যেসব বক্তব্য তা পেশ করবো। আরও কিছুদিন গেলে আমরা সেগুলোতে সভা-সমাবেশ করবো। তবে এই মুহূর্তে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বা নির্বাচনি রাজনীতি নিয়ে আমরা কিছু ভাবছি না।

অন্যদিকে, অনিক রায় বলেছেন, আমাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে নির্বাচন করা বা কারো সঙ্গে জোটে যাওয়া সম্ভব না। আমরা এ কাজ করতেও চাইনি। এ কারণে আমরা আত্মপ্রকাশের জন্য এ সময়টা বেছে নিয়েছি। যেন কেউ এটা না ভাবে যে এই প্ল্যাটফর্ম নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো জোট। তিনি আরও বলেন, আমরা সোশ্যাল-ডেমোক্রেসি নিয়ে ভাবছি। সেটিকে আমাদের তুলে ধরতে হবে। অনিক রায় বলেন, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো অর্থনৈতিক মডেল নেই। আমরা রাজনীতিকে আরও স্পষ্ট করতে যা যা লাগে করছি। আমরা মাঠকর্মী ও সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কাজও এগিয়ে নিচ্ছি। 

এফএআর/এসএনআর/এমএস