মঞ্চ ২৪
তথ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ১৭ বছর ‘তথ্য সন্ত্রাস’ চালানো হয়েছে
মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গণমাধ্যমকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মঞ্চ ২৪ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছরে গণমাধ্যমকে জনগণের কণ্ঠস্বর থেকে সরিয়ে ক্ষমতাসীনদের প্রচারযন্ত্রে পরিণত করা হয় এবং তথ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে চালানো হয় ‘তথ্য সন্ত্রাস’।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আওয়ামী দুঃশাসনের সময় পরিকল্পিতভাবে একটি অপসাংবাদিকতা সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়, যারা সাংবাদিকতার আড়ালে মিথ্যাচার, চরিত্রহনন ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর কাজে লিপ্ত ছিল। এর ফলে সত্যকে দমন করা হয়েছে এবং ভিন্নমতকে নির্মমভাবে দমন করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, যারা সত্য প্রকাশের চেষ্টা করেছেন; তারা হয়রানি, মামলা, চাকরিচ্যুতি, এমনকি শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার হুমকির মুখে পড়েছেন। বর্তমান সরকার সেই তথাকথিত ‘তথ্য সন্ত্রাসীদের’ পুনর্বাসন করছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক আরও বলেন, অতীতে অপসাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত অনেক ব্যক্তি এখনও গণমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন এবং সুযোগ পেলে পুনরায় গণমাধ্যমকে দখল করার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, অতীতে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন।
মঞ্চ ২৪ দাবি করে, কিছু গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে এখনো ফ্যাসিবাদী শাসনের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এবং সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। এসব কারণে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সংগঠনটি এ সময় ছয় দফা দাবি তুলে ধরে, যার মধ্যে রয়েছে-
১. অপ-সাংবাদিকতা ও তথ্য সন্ত্রাসে জড়িত সব ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে জবাবদিহিতা ও বিচারের আওতায় আনা।
২. গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবের সব পথ বন্ধ করা।
৩. সাংবাদিকদের ওপর হয়রানি ও নিপীড়ন বন্ধ করা এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।
৪. গণমাধ্যমের ভেতরে লুকিয়ে থাকা দখলদার ও স্বার্থান্বেষী চক্রকে অপসারণ করা।
৫. প্রকৃত স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পেশাদার সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
৬. জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করে তথ্যপ্রবাহ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এসব দাবি উপেক্ষা করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানায় মঞ্চ ২৪।
এফএআর/এএমএ
সর্বশেষ - ক্যাম্পাস
- ১ ঢাবি ভিসির সঙ্গে সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
- ২ তথ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ১৭ বছর ‘তথ্য সন্ত্রাস’ চালানো হয়েছে
- ৩ চবিতে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু ৩ মে, একই দিনে ওরিয়েন্টেশন
- ৪ জবিতে ছাদের পলেস্তারা খসে ২ শিক্ষার্থী আহত, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
- ৫ উপাচার্য নিয়োগের সার্চ কমিটির সদস্য হলেন রাবি উপাচার্য