ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. ক্যাম্পাস

ইবিতে ফের নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ফাঁস

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় | প্রকাশিত: ০৮:০৮ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে নিয়োগ বাণিজ্যের আরেকটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে। এবার নিয়োগ বাণিজ্যের‘মূল হোতা’ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানের নাম উঠে এসেছে। 

গত ২ এপ্রিল দেশের বিভন্ন পত্র-পত্রিকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘থ্রি ফাস্ট ক্লাসে ১৫ লাখ টাকা ফোরে ১২’ সংক্রান্ত মোবাইল কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়। সেই অডিওটি ছিল ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রুহুল আমিনের। এবার সেই রুহুল আমিনের সঙ্গে মাহবুবর রহমানের নিয়োগ বাণিজ্য সংক্রান্ত  একটি অডিও ফাঁসের ঘটনায় ক্যাম্পাসে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অডিও ক্লিপটি জাগো নিউজের এই প্রতিনিধির হাতে রয়েছে।

এ অডিওতে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নিয়োগ নিয়ে বিভাগটির তৎকালীন সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক রুহুল আমিনের সঙ্গে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবর রহমন। সেখানে নিয়োগ বোর্ড শেষে হালিম নামে এক প্রার্থীকে ধরার নির্দেশ দেন তিনি। তাকে ব্রেন ওয়াশ না করলে সর্বানাশ হয়ে যাবে বলেও সতর্ক করা হয় রুহুল আমিনকে। 

ইতোপূর্বে ফাঁস হওয়া অডিওতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তৎকালীন সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক রুহুল আমিন নিয়োগ প্রত্যাশিতকে খুঁজতে তার বন্ধু এশিয়ান ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাকিমকে নির্দেশনা দেন। এবারের কথোপকথনে নিয়োগ বোর্ড শেষ হবার পরে প্রক্টর তার ‘শিষ্য’ রুহুল আমিনকে হালিম নামে এক নিয়োগ প্রত্যাশীকে ধরে আনতে নির্দেশ দেন। সে চালাকি করছে জানিয়ে তাকে ধরে আনতে বলেন। হালিম ওই নিয়োগ বোর্ডে শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্ত হন। তিনি এখন ফিন্যান্স বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার ও বিভাগীয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের ১৩ মার্চ। বিজ্ঞপ্তি দেয়া তিনটি পদের বিপরীতে নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডে অংশ নেন ৩৮ জন। মৌখিক সাক্ষাৎকার শেষ হয় বিকেল ৩টার দিকে। শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই বিভাগের তৎকালীন সভাপতি  রহুল আমিনকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেয়া প্রার্থীদেরকে ধরে আনার নির্দেশনা দেন বর্তমান প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। 

অভিযোগ রয়েছে, রুহুল আমিন নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থী খোঁজার দায়িত্বে থাকতেন এবং প্রক্টর মাহবুবর রহমান সু কৌশলে বিভিন্ন মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করতেন। তিনি সাবেক তিন উপাচার্যের খুবই কাছের ব্যক্তি হিসেবে এসব কাজ সহজেই সম্পাদন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান তার নিজের নামে নিবন্ধনকৃত গ্রামীণ ফোন নম্বর থেকে ফিন্যান্স অ্যন্ড ব্যাংকিং বিভাগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিনের সঙ্গে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেন। কথোপকথনটি জাগো নিউজরে পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো- 

রুহুল আমিন : হ্যালোমাহবুব: তোমার মোবাইল বন্ধ? ধরতে ছো না যে মোবাইল? রুহুল: মোবাইল স্যার ভুলে অফিসে রেখে আসছি স্যার, বলেন স্যার।
মাহবুব: মোবাইল অফিসে রাখলে তো মুশকিল! হালিম, আমি কিন্তু তোমাকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি ও চালাকি করতেছে। 

রুহুল: কেন স্যার?

মাহবুব: ও চালাকি করতেছে তুমি যদি এখন আমার সঙ্গে (তুমিসহ) দেখা করতে না আসো ওর যদি ব্রেন ওয়াশ করে না দেই তাহলে কিন্তু সর্বনাশ হয়ে যাবে। ও মানে চালাকি করতেছে মানে কী? হানন্ড্রেড পারসেন্ট চালাকি করছে এবং পালানোর চেষ্টা করছে। সব কিছু “ও” (হালিম) জানে , হয়ে গেছে। সব কিছু হয়ে গেছে,পালানোর চেষ্টা করছে। আমি তোমাকে বললাম, আমার জাস্ট অভিজ্ঞতা দিয়ে বললাম তুমি কাজটা করো। কিছুই না ওকে নিয়ে আসো ব্রেন ওয়াশ করি তার পরে সে যাক। বলছে (হালিম) স্যার খুব ভালো ভাইভা দিয়েছি স্যার, খুব ভাল হয়েছে স্যার, একদম স্যার সব উত্তর দিয়েছি, স্যার কী খবর হয় না হয় স্যার, বাসায় গিয়ে শুনি স্যার। ব্যাগ ট্যাগ গুছিয়ে বাড়ি চলে যাই স্যার, বাসায় গিয়ে শুনি স্যার। তার প্রতিটি কথার মধ্যে আমার সন্দেহ হয়। 

রুহুল: না না স্যার, আপনি টেনশন করেন না স্যার।মাহবুব: তুমি কী তাকে আনতে চাচ্ছো না ?
রুহুল : স্যার আমি দেখছি স্যার, আমি ফোন দিচ্ছি স্যার, কোথায় আছে?মাহবুব: এখন চলে যাবে। তিনটি ক্যান্ডিডেটের সঙ্গে যদি একটু কথা বলা যেত না সব চেয়ে ভালা হতো।
রুহুল : দেখি আমি কথা বলছি স্যার।মাহবুব: দেখতো একটু।  

তাদের এই কথোপকথন নিয়ে ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ওই নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডে মো. আবদুল হালিম, সঞ্জয় কুমার সরকার এবং বখতিয়ার হাসানকে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এদের মধ্যে হালিম এবং সঞ্জয় কুমার সরকারের বিবিএ সম্মান শ্রেণির ফলাফলে গ্রেড পয়েন্ট ৩.৫০ ছিল না। তবে তাদের শিক্ষক হিসেবে আবেদনের যোগ্যতা ছিল। অথচ আবেদনকারীদের মধ্যে ১৫ জনের ফোর ফার্স্ট ক্লাস ছিল। তাদের বাদ দিয়ে এই দুইজনের নিয়োগ পাওয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। 

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন প্রক্টর মাহবুবর রহমান। বিভাগটি চালু হওয়ার সময় তিনজন শিক্ষকে নিয়োগ দেয়া হয়। তারা সবাই প্রক্টর মাহবুবর রহমানের লবিংয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান এবং তারই বলয়ে থেকে ক্যাম্পাসে শিক্ষক রাজনীতি করেছেন। তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এম আলাউদ্দিনের খুবই আস্তাভাজন ছিলেন এই অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। সেই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে কৌশলে এসব শিক্ষকদের নিয়োগ দেন। এই নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ব্যাপক লেনদেন হয় বলে ক্যাম্পাসে সেই সময় আলোচনা হয়। 

এ বিষয়ে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এর আগেও অডিও ক্লিপ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি। এবারও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, যে অডিও কথোপকথনের কথা বলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতকি মতাদর্শগত চক্রান্ত। কারণ উল্লেখিত সময়ে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ দুই ভাগে বিভক্ত ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশিদ আসকারী জাগো নিউজকে বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আমি সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতিতে চলছি। তদন্ত এবং প্রমাণ সাপেক্ষে অপরাধী যেই হোক তার শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

ফেরদাউসুর রহমান সোহাগ/আরএআর/জেআইএম

আরও পড়ুন