ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

১০ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার, দুর্যোগে সুফল পাবে লক্ষাধিক মানুষ

জেলা প্রতিনিধি | লক্ষ্মীপুর | প্রকাশিত: ০৪:৫৯ পিএম, ০৭ মার্চ ২০২৫

লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর পানিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ লবণাক্ত পানি থেকে ফসলি জমি রক্ষা করতে সংস্কার করা হচ্ছে ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। এতে নদীর পানিতে ডুববে না ফসলি ক্ষেত, লবণাক্ত পানি থেকে রক্ষা পাবে ৪০০ হেক্টর জমির ফসল। এর সুফল পাবে কৃষক। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাবে উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ।

জানা গেছে, সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট থেকে উত্তর দিকে মোল্লারহাট সড়কের চররুহিতা পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বেড়িবাঁধ রয়েছে। পুরো বাঁধ ভগ্নদশার সৃষ্টি হয়েছে। কৃষকের ফলানো সোনার ফসল জোয়ারের পানি থেকে রক্ষা করতে 'ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট' এর আওতায় বেড়িবাঁধটির ১০ কিলোমিটার অংশে সংস্কার কাজ চলছে। এতে একদিকে জোয়ারের পানি থেকে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি রক্ষা পাবে। আরেকদিকে দূর্যোগ থেকে রক্ষা পাবে লক্ষাধিক মানুষ।

স্থানীয়রা জানায়, বেড়িবাঁধটির উত্তর অংশে অন্তত তিন কিলোমিটার ১০ বছর আগে অতিরিক্ত জোয়ারের পানির চাপে ভেঙে যায়। তখন থেকে আশপাশের জমিতে থাকা আমন ধান ও রবিশস্য নষ্ট হয়। এরপর থেকে জোয়ারের পানিতে জমি ডুবে স্থানীয় কৃষকরা চাষাবাদ করে প্রতিবছর ক্ষতির সম্মুখিন হয়ে আসছে। এছাড়া বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বন্ধ ছিল।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে মজুচৌধুরীর হাটে 'ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট' হাতে নেওয়া হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি ভাঙা অংশে একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে। একইসঙ্গে বাঁধ এলাকার দুই কিলোমিটার অংশে ক্যাম্পের খাল পুনঃখনন করা হচ্ছে। বাঁধ সংস্কার ও খাল খননে ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

এছাড়া প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় হবে স্লুইসগেট নির্মাণে। সমুদ্র নিচ থেকে বাঁধের উচ্চতা সাড়ে ৭ মিটার ও উপরিভাগের প্রস্থ ৬ মিটার হবে। চলতি বছরের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

১০ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার, দুর্যোগে সুফল পাবে লক্ষাধিক মানুষ

স্থানীয় কৃষক মো. সোহেল ও আব্দুর রহিম জানায়, বাঁধের পূর্ব পাশে বিস্তির্ণ ফসলি জমি রয়েছে। গত মৌসুমে জোয়ারে লবণের পানি ঢুকে সয়াবিন পচে গছে। এভাবে গত কয়েক বছর ধরে ক্ষতির সম্মুখিন হতে হচ্ছে। এখন বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে। সম্পূর্ন কাজ শেষ হলে জোয়ারের পানি জমির ও ফসলের ক্ষতি করতে পারবে না। কৃষিকাজে উন্নতি হবে। বর্ষায় মেঘনার জোয়ারের পানি ঢুকবে না, শুষ্ক মৌসুমে ক্যাম্পের খাল থেকে পানি ঢুকবে। ওই পানি বোরো আবাদে ব্যবহার করা যাবে।

আবুল বাশার বলেন, মজুচৌধুরীরহাট থেকে মোল্লারহাট সড়ক পর্যন্ত বাঁধটি স্থানীয় বাসিন্দাদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। এতে যানবাহনও চলাচল করতো। বাঁধ ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাঁধ সংস্কার হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল হবে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম বলেন, বাঁধের পূর্বপাশে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে আমন মৌসুমে জলাবদ্ধতা থাকে। এতে সঠিক সময়ে চারা রোপণ করা যায় না। এতে নানামুখী ফসল উৎপাদনও ব্যহত হত। বাঁধটি হলে জলাবদ্ধতা হবে না। নানামুখী ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। আমন ধান কাটার পরপর সরিষার আবাদে লাভবান হবে কৃষক। এরপর একই জমিতে রবিশস্য আবাদ করতে পারবে কৃষকরা।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান বলেন, অতিরিক্ত জোয়ারের পানি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ-জলোচ্ছ্বাস থেকে ফসল ও লোকালয় রক্ষায় বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত জোয়ারে লবাণাক্ত পানি ফসলি জমি ও লোকালয়ে ঢুকতে পারবে না। শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি দিয়ে চাষাবাদ করা যাবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষে জনগণ নানামুখী সুফল পাবে।

কাজল কায়েস/আরএইচ/এমএস