ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

হত্যার ৬ মাসেও গ্রেফতার হয়নি কেউ

প্রকাশিত: ০৯:২০ এএম, ৩১ মে ২০১৬

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সাধন কর্মকার নামে এক স্বর্ণ ব্যাবসায়ী হত্যার ৬ মাস অতিবাহিত হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে সন্দেহজনক ব্যক্তিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নিহতের পরিবার।  

মঙ্গলবার সরেজমিনে নিহত সাধনের নিজ বাড়ি বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা গ্রামে গেলে নিহতের বড় ভাই সন্তোষ কর্মকার জানান, রাজশাহীর বাঘা থানার আড়ানী বাজারস্থ ‘লিপি জুয়েলার্সের’ মালিক সাধন কর্মকার। গত বছরের ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। নিখোঁজের তিন দিন পর ৩০ নভেম্বর ভোরে রাজশাহীর বাঘা থানার ঝিনা এলাকার রেল লাইনের পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা।

এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই সন্তোষ কর্মকার বাদী হয়ে গত বছরের ১ ডিসেম্বর ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত লক্ষীকান্ত কর্মকারের পালিত ছেলে অজিত কর্মকার ও মৃত নলু প্রাং-এর ছেলে নয়মুদ্দিন প্রাংদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এ ব্যাপারে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে নয়মুদ্দিনের সঙ্গে কয়েকবার ব্যাপক কথাকাটাকাটিও হয়েছিল। এসব ব্যক্তিই সাধন কর্মকারের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে বাদী সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। মামলাটির তদন্তভার বর্তমানে সিআইডি’র হাতে রয়েছে।


কিন্তু মামলা দায়েরের পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও মামলার কোনো অগ্রগতি না থাকায় সন্দেহজনক ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে নিহত সাধনের স্বজনদের হুমকীও দিয়ে আসছে। ফলে নিহত সাধনের স্ত্রী, মা ও পরিবারের অন্যান্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ ব্যাপারে বাগাতিপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে থানা কতৃপক্ষ তা গ্রহণ করেননি বলে সন্তোষ কর্মকার অভিযোগ করেন। পরে নাটোরের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জী বরাবর একটি আবেদন করলে তিনি বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অনুসন্ধান করার নির্দেশ দেন। সন্তোষ কুমার দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক খন্দকার ফেরদৌস আহমেদ জানান, মামলাটির তদন্তভার তার হাতে রয়েছে। তদন্ত চলছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি তদন্ত কাজ শেষ করবেন।

বাগাতিপাড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান পুলিশ সুপারের কাছ থেকে অনুসন্ধানের নির্দেশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তার সঙ্গে এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে বাদী পক্ষের কথা হলেও তার কাছে কেউ ডায়েরি করতে আসেননি। পুলিশ সুপারের নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন।

রেজাউল করিম রেজা/এফএ/এবিএস