ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাঁধের অপেক্ষায় আমাগো ৪৫ বছর গেলো

জেলা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ০৯:৩৪ এএম, ৩১ মে ২০১৬

বাঁধটি কোনো রকমে সংস্কার করে নদী তীরে বসবাস করছিল স্থানীয়রা। আশপাশে ফসলও ফলাতো তারা। কিন্তু টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে বেড়িবাঁধের মাটি নরম হয়ে যায়। সেইসঙ্গে দমকা হাওয়া ও জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে যায় বেড়িবাঁধের ৩০০ মিটার এলাকা।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় মোট ১০ কিলোমিটার বেড়ি বাধ। মুহুর্তের মধ্যে নদী তীরবর্তী প্রায় ২০টি গ্রামে পানি এসে তলিয়ে যায় ফসলের মাঠ ও বসতঘর। বিষখালী নদীর তীরবর্তী কাঁঠালিয়ার পাঁচটি ইউনিয়নের দুই শতাধিক পরিবার এখনও পানিবন্দী রয়েছে।

মূলত ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বিষখালী নদী তীরবর্তী ২৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধটি ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ৯ বছর পার হলেও বাঁধটি সংস্কার করা হয়নি।

Jhalokathi-pic
 
উপজেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, পাটিখালঘাটা, শৌলজালিয়া ও আওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিল নদী তীরবর্তী ৬১০ জন বাসিন্দা। পানিতে তাদের বসতঘর তলিয়ে যাওয়ায় এখনও বাড়ি ফিরতে পারছে না তারা।

বিষখালী নদীর তীরের বাসিন্দা কৃষক মানিক খান বলেন, ‘বেড়ি বাঁধের অপেক্ষায় আমাগো ৪৫ বছর শেষ হয়ে গেছে। কবে সরকার আমাগো মুখের দিকে চাইবে জানি না। দুর্যোগের সময় পানিতে বাঁধ ভাইঙ্গা তলাইয়া যায় সব কিছু। হেই বইন্যার সময় সেন্টারে উঠছি, এহনো বাড়ি যাইতে পারি নাই। পানিতে ঘর ও তিলক্ষেত তলাইয়্যা গ্যাছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্যানুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুতে বেড়ি বাঁধ ভেঙে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকা, বড় কাঁঠালিয়া, মশাবুনিয়া, জয়খালী ও চিংড়াখালী গ্রাম, শৌলজালিয়া ইউনিয়নের রগুয়ার চর, দড়ির চর, তালগাছিয়া, আওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া ও উত্তর আওড়াবুনিয়া, চেঁচরিরামপুর ইউনিয়নের বানাই, দক্ষিণ চেঁচরিরামপুর ও মহিষকান্দি, পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের জোরখালী, নেয়ামতপুড়া ও তারাবুনিয়া এবং আমুয়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ডাকবাংলো ও আমুয়া ফেরিঘাট এলাকা। এ ছাড়া পানিতে ভেসে গেছে শতাধিক ঘেরের মাছ।

Jhalokathi-pic

কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শরীফ মুহম্মদ ফয়েজুল আলম বলেন, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু মোকাবিলায় আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তাই এখানে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে বিষখালী নদীর তীরবর্তী ৩০০ মিটারসহ মোট ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ফলে পানি প্রবেশ করে পাঁচটি ইউনিয়নের ফসল ও অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘদিন এ প্রকল্পের ফাইল মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আটকে ছিল। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে পানি সম্পদ মন্ত্রী এ ব্যাপারে সংশিষ্ট সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানি।    
       
এফএ/আরআইপি