নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়লো ব্যায়ামাগারের ছাদ
বগুড়া পৌর পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ব্যায়ামাগার ভবনের তিন তলার ছাদ ঢালাইয়ের দিনেই ধসে পড়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে ছাদ ঢালাই দেওয়ার পর সন্ধ্যায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পৌরসভা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১ কোটি ৪৫ লাখ ৩২ হাজার ৫১৪ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ব্যায়ামাগার, সুইমিং পুলের প্ল্যাটফর্ম, টয়লেট ও শিশুদের বসার ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এই কাজ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই দফা সময় বাড়িয়েও তা শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বুধবার বিকেলে সরেজমিনে পৌর পার্কে গিয়ে দেখা যায়, ধসে পড়া ছাদের ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করছেন শ্রমিকেরা। দুটি পিলারের (কলাম) একটি হেলে পড়েছে এবং অন্যটিতে বড় ফাটল দেখা গেছে।
পার্কে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী মুহিবুল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন, ভবন নির্মাণের আগেই ছাদ ধসে পড়া প্রমাণ করে কাজে বড় ধরনের গাফিলতি আছে। এর সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।
স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী বজলু জোয়ার্দার অভিযোগ করেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।
কাজের গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয় ট্রেডার্স-এর মালিক ফজলুর রহমান জয়। তিনি দাবি করেন, ঢালাইয়ের পর একটি খুঁটির গোড়া থেকে মাটি সরে যাওয়ায় কাঁচা কংক্রিট ধসে পড়েছে। এটি একটি দুর্ঘটনা। পৌরসভার প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতেই সব কাজ করা হয়েছে। এই আর্থিক ক্ষতি আমাকেই পূরণ করতে হবে।
এদিকে একটি ভবন নির্মাণে সিঁড়ি না রাখা এবং পিলারের সঙ্গে মূল কাঠামোর সংযোগ না থাকা নিয়ে স্থানীয়দের করা অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
সার্বিক বিষয়ে বগুড়া পৌরসভার প্রশাসক রাজিয়া সুলতানা বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। যেহেতু বিষয়টি কারিগরি, তাই আমাদের প্রকৌশলীদের খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। ঠিকাদারকে সতর্ক করার পাশাপাশি এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের বিশাল বাজেটের এই প্রকল্পে এমন ধসের ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। কাজের মান নিশ্চিত করে দ্রুত প্রকল্পটি শেষ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এল.বি/কেএইচকে/জেআইএম