ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

অবশেষে চালু হচ্ছে সিলেট জেলা হাসপাতাল

জেলা প্রতিনিধি | সিলেট | প্রকাশিত: ০৯:০০ পিএম, ০২ অক্টোবর ২০২৫

সিলেটের ঐতিহ্য ও আসাম প্যাটার্নের নান্দনিক স্থাপনাকে ধূলিসাৎ করে ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ২৫০ শয্যা সিলেট জেলা হাসপাতাল। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কারও কোনো মতামত না নিয়ে নির্মিত এই হাসপাতালটির দায়িত্ব নিতে চাননি কেউ। অনেকটা ‘বেওয়ারিশ’ লাশের মতো পড়ে ছিল স্থাপনাটি।

অবশেষে হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব জটিলতা কাটিয়ে আগামী দু-একমাসের মধ্যে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু হওয়ার কথা জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে নির্মিতব্য ক্যানসার ইউনিটের কাঠামোগত উন্নয়ন পরিদর্শনে যান গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সব জটিলতা কাটিয়ে আগামী দু-একমাসের মধ্যে হাসপাতালের কার্যক্রম চালু হবে। এটি চালু হলে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সিলেটে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি হবে, যাতে করে সিলেটের ক্যানসার আকান্ত রোগীদের ঢাকা কিংবা দেশের বাইরে যেতে না হয়।’

ওসমানী হাসপাতাল প্রসঙ্গে ডিসি বলেন, এখানকার চিকিৎসক ও নার্সরা খুব আন্তরিক। কিন্তু অতিরিক্ত রোগীর কারণে সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এখানে ৫০০ শয্যার জনবল রয়েছে কিন্তু রোগী থাকেন প্রায় তিন হাজার। এছাড়া রোগীদের স্বজনরাও ভিড় করেন। এ কারণে সবকিছুতে ঝামেলা হচ্ছে। এসময় তিনি ওসমানী হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার কথা বলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী আবু সিনা ছাত্রাবাস ভেঙে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কারও মতামত না নিয়ে নির্মাণ করায় এটির দায়িত্ব নিতে রাজি ছিলেন না সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সিভিল সার্জন অফিসসহ কেউই এর দায়িত্ব নিতে রাজি নন। ফলে হাসপাতাল চালু করা নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। হাসপাতাল কমপ্লেক্স বুঝিয়ে দেওয়ার মতো কর্তৃপক্ষ পাচ্ছিল না গণপূর্ত বিভাগ। এ অবস্থায় হাসপাতালের দায়িত্ব হস্তান্তরসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে আট সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

গণপূর্ত বিভাগ জানায়, ১৫ তলা হাসপাতাল ভবনে আনুমানিক ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আটতলা ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন পরিচ্ছন্নতাসহ আনুষঙ্গিক সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এই কাজগুলো মাসখানেকের ভেতরে শেষ করা হবে। এগুলো শেষ হলেই পুরোপুরিভাবে ভবনের সব কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।

হাসপাতাল ভবনের বেজমেন্টে রয়েছে কার পার্কিং ব্যবস্থা। প্রথম তলায় টিকিট কাউন্টার ও ওয়েটিং রুম; দ্বিতীয় তলায় আউটডোর, রিপোর্ট ডেলিভারি ও কনসালট্যান্ট চেম্বার; তৃতীয় তলায় ডায়াগনস্টিক; চতুর্থ তলায় কার্ডিয়াক ও জেনারেল ওটি, আইসিসিইউ, সিসিইউ; পঞ্চম তলায় গাইনি বিভাগ, অপথালমোলজি, অর্থপেডিক্স ও ইএনটি বিভাগ এবং ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম তলায় ওয়ার্ড ও কেবিন। এর মধ্যে আইসিইউ বেড ১৯টি, সিসিইউ বেড ৯টি এবং ৪০টি কেবিন রয়েছে।

আহমেদ জামিল/এসআর/জেআইএম