ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বিদ্যালয় ভবন যেন গবাদিপশুর বিচরণভূমি

উপজেলা প্রতিনিধি | মিরসরাই (চট্টগ্রাম) | প্রকাশিত: ০৫:২১ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২৫

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে শফিউল আলম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভবন গবাদিপশুর চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। উপজেলার ১৩ নম্বর মায়ানী ইউনিয়নের এ বিদ্যালয়ের বারান্দা ও আঙিনায় এখন গরু-ছাগলের বিচরণ চোখে পড়ে। এতে একদিকে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য অন্যদিকে পরিচ্ছন্নতা নষ্ট হচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের বারান্দায় ১০ থেকে ১২ টি ছাগল বাঁধা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের মাঠ, আঙিনা ও বারান্দায় অবাধে গবাদিপশু রাখা হচ্ছে। দরজা-জানালায় ধুলা ও গোবরের দাগ লেগে রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে। দেখে মনে হবে না এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ যেন গোয়ালঘর। দুর্গন্ধে নাক চেপে রাখা দায়।

এলাকাবাসী বলছেন, পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ চলছে অন্তত ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে। মাঠভর্তি ইট, বালু, কংক্রিটের স্তূপ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। পাশের ছোট একটি মাঠে জমে থাকা পানিতে জমেছে শেওলার আস্তর। বাসা বেঁধেছে মশা মাছি।

তারা আরও বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে গত ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। এছাড়া একটি কক্ষে রাখা হয়েছে কাঠ, বাঁশসহ বিভিন্ন মালামাল। অন্যদিকে গাদাগাদি করে শ্রেণিকক্ষে চলে পাঠদান।

বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র ইকবাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের বারান্দায় প্রায় সময় গরু ছাগল বিচরণ করে। মাঝেমধ্যে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে যায়। এতে পড়াশোনার মনযোগ নষ্ট হয়।

বিদ্যালয় ভবন যেন গবাদিপশুর বিচরণভূমি

ওই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুসলিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়টি এলাকার অন্যতম পুরনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অথচ এখন দেখলে মনে হয় এটি স্কুল নয়, গবাদিপশুর আশ্রয়কেন্দ্র। এ ব্যাপারে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

একজন অভিভাবক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, আমাদের সন্তানরা যেখানে পড়াশোনা করার কথা, সেখানে এখন গরু-ছাগল বাঁধা থাকে। এতে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস করার আগ্রহও কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, রাত হলে কিছু ছিঁচকে চোরের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠে এ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের জানালা, গ্রিল, রড়, ইট সব চুরি করে নিয়ে যায় তারা। এলাকার পাশাপাশি বিদ্যালয়েরও দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামীম বিন আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, আমি এ প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছি মাস খানেক হয়েছে। বিষয়টি তিনি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের কক্ষে মালামালগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফেরদৌস হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মালামাল রাখার এখতিয়ার কারো নেই। বিদ্যালয় আঙিনায় গরু-ছাগল বিচরণ হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন গড়তে পারে। বিষয়টি আসলে আমার জানা নেই। যেহেতু আপনার মাধ্যমে জেনেছি আমি খোঁজ নিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এম মাঈন উদ্দিন/আরএইচ/জিকেএস