ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

যে কারণে মুকুলের সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হয়েছিল মহুয়ার পরিবার

প্রকাশিত: ০৩:৪৪ পিএম, ২১ জুন ২০১৬

শিবির কিংবা কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে মুকুল জড়িয়ে ছিল কি না তা জানতেন না মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস ও তার পরিবারের সদস্যরা। বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ  বাংলা টিমের সদস্য শরিফুল ওরফে মুকুল রানা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হবার পর এমনটাই দাবি করেছেন নিহতের শ্বশুর মোহাম্মদ আলী।

যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর বিশ্বাসপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর দাবি, মেয়ে মহুয়া আক্তার রিমির সঙ্গে মুকুলের বিয়ের প্রস্তাব এসেছিল ঘটক মারফত। ছেলেটি উচ্চশিক্ষিত, ঢাকায় বড় কোম্পানিতে চাকরিও করে ভালো বেতনে ঘটক এমন তথ্য দেয়ায় এক কথায় এ বিয়েতে রাজি হয়ে যান তারা। কিন্তু তখন যদি মুকুলের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা জানতেন তাহলে কোনো ভাবেই এ বিয়েতে মত দিতেন না পরিবারের কেউ।

ঢুকরে কেঁদে উঠে আবার বললেন তিনি, ‘বিয়ের চারদিন পর মেয়ে স্বামী হারা হবে, চার মাসে বিধবা! কোনো বাবা কি সেটা চায়? আগে জানলে কেন বিয়ে দিতে যাবো ওই ছেলের সঙ্গে।’

নিহতের শ্যালক আমির হোসেন জানান, বর-কনে পক্ষের দেখা-শুনার মাধ্যমে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে মুকুলের সঙ্গে বিয়ে হয় তার বোন রিমির। এরপর মুকুল ২৩ ফেব্রুয়ারি বসুন্দিয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজবাড়ি সাতক্ষীরা যাবার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে জানতে পারেন ওই দিন সন্ধ্যায় বসুন্দিয়া থেকে ডিবি পরিচয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি কয়েকদিন পর যশোর কোতয়ালি থানায় জিডি করেন।

যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন জানান, নিহত জঙ্গি শরিফুল আর এই মুকুল রানা একই ব্যক্তি কি না তা তিনি জানেন না। তবে বসুন্দিয়া থেকে সাতক্ষীরা যাবার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মুকুল নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন- মর্মে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কোতয়ালি থানায় একটি জিডি হয়েছে। আমির হোসেন নামে একজন এই জিডির বাদী।

এদিকে মুকুলের পরিচয় প্রকাশের পর বসুন্দিয়া জগন্নাথপুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুকুলের নিখোঁজ হবার ব্যাপারটি স্থানীয়দের অজানা না হলেও সে যে পুরস্কার ঘোষিত ছয় জঙ্গির একজন এটা জানতেই আঁতকে ওঠেন সবাই। কারণ মুকুলকে কেউ না চিনলেও তার শ্বশুর মোহাম্মদ আলী বিশ্বাসকে ভালো মানুষ হিসেবেই জানেন সবাই।

মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস ভৈরব নদীতে ট্রলার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন বয়সের ভারে কাজ করতে পারেন না। তিনিসহ তার দুই ছেলে ও এক মেয়ের কেউ কখনো কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন তথ্য জানা নেই কারো।

মোহাম্মদ বিশ্বাসের বড় ছেলে মুজিবর রহমান বিশ্বাস পেশায় কবিরাজ। এলাকায় তিনি পরহেজগার লোক হিসেবে পরিচিত। মুকুল নিখোঁজ হবার পর তার খোঁজে ঢাকায় গিয়ে আটক হন তিনিও। এখনো তিনি কারাবন্দী। ছোট ছেলে আমির হোসেন কৃষি কাজ করেন। আর মেয়ে মহুয়া বিয়ের পর থেকে বাড়িতেই নিঃসঙ্গ দিন কাটাচ্ছেন।

তবে মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস ও তার পরিবারের লোকজন রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকলেও তাদের স্বজনদের বেশির ভাগই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে এখনো সক্রিয়। মোহাম্মদ আলী বিশ্বাসের ভাইপো মাহবুবুর বিশ্বাস জামায়াতের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা। জেলও খেটেছেন একাধিকবার।

মাহবুবুরের অন্যান্য ভাইয়েরাও একই দলের রাজনীতি করেন। আর মোহাম্মদ আলী বিশ্বাসের পরিবারের উপর রয়েছে এদের প্রভাব। মুকুল-মহুয়া বিয়ের ঘটক কে সে ব্যাপারে এই পরিবার মুখ না খুললেও স্থানীয়দের ধারণা মাহবুবুর বিশ্বাস বা সংশ্লিষ্ট কেউ এ বিয়ের ঘটক ছিলেন।

মিলন রহমান/এআরএ/এমএস

আরও পড়ুন