ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

হামিদুর রহমান আযাদ

ফ্যাসিবাদী আমলের মিথ্যা মামলায় মনোনয়নপত্র বাতিল অন্যায় সিদ্ধান্ত

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ১০:৩৫ এএম, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেছেন, ফ্যাসিবাদী আমলের সাজানো ও মিথ্যা মামলার অজুহাতে মনোনয়নপত্র বাতিল করা অন্যায় সিদ্ধান্ত। আমার হলফনামায় ঋণখেলাপি, ট্যাক্স ফাঁকি বা রাষ্ট্রীয় কোনো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। তারপরও ২০১৩ সালের আদালত অবমাননার একটি মামলাকে সামনে এনে মনোনয়ন বাতিল করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা জামায়াত কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ এসব কথা বলেন।

মামলার বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, যে মামলাটি দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, তা ফৌজদারি অপরাধ নয়। এটি ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে একটি বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে করা আদালত অবমাননার মামলা, যা কোনো ক্রিমিনাল কেসের সংজ্ঞায় পড়ে না।

তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও এই একই ইস্যু উত্থাপন করা হয়েছিল। তখন আইনি পর্যালোচনা শেষে রিটার্নিং অফিসার এটিকে নির্বাচনি অযোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করেননি। এমনকি ওই মামলায় সাজা ঘোষণার পরও তিনি দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ড. আযাদ বলেন, সাজা হওয়ার পরও আমি সংসদে ছিলাম, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছি। তখন আদালত বা সংসদ কেউই এটিকে ফৌজদারি অপরাধ বলেননি। একই মামলায় এখন মনোনয়ন বাতিল করা অন্যায় নজির।

আরও পড়ুন:
মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় জামায়াত প্রার্থী আযাদের মনোনয়ন বাতিল

তিনি প্রশাসনের আচরণ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেন। বলেন, যাচাইবাছাইয়ের বিরতির সময় আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে আলাদা করে ডেকে এনে নতুন পিটিশন গ্রহণ করা হয়েছে, যা নিরপেক্ষতার ন্যূনতম মানদণ্ডও পূরণ করে না।

তার অভিযোগ, মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা আসার পর উপস্থিত কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে হাততালি দিতে দেখা গেছে। যারা প্রশাসনে দায়িত্বে থেকে হাততালি দেয়, তারা কখনো নিরপেক্ষ হতে পারে না। এটা প্রমাণ করে যে প্রশাসনে এখনও ফ্যাসিবাদের দোসর সক্রিয়।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা দেশে একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও প্রশ্নহীন নির্বাচন চাই। কিন্তু প্রশাসনের ভেতরে দলীয় প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব ও পুরোনো রাজনৈতিক মামলাকে অস্ত্র বানানো হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের এই পক্ষপাতমূলক আচরণ বন্ধ না হলে ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে নির্বাচন জাতির জন্য দুর্ভাগ্য ডেকে আনবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর হিসেবে চিহ্নিত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অপসারণ দাবি করেন।

ড. আযাদ আরও জানান, তিনি ইতোমধ্যে পুনরায় শুনানির আবেদন জমা দিয়েছেন ও প্রয়োজন হলে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবেন।

সায়ীদ আলমগীর/এমএন/এএসএম