ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

খর্বাকৃতির ফরহাদ-আরিফা দম্পতির পাশে জেলা প্রশাসন

জেলা প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া | প্রকাশিত: ১১:২৫ এএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

শারীরিক প্রতিবন্ধী ৩ ফুট উচ্চতার মোহাম্মদ ফরহাদ মিয়া ও আড়াই ফুটের আরিফা দম্পতি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন। তাদের নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ফরহার দম্পতিকে সরকারি জায়গায় একটি কনফেকশনারি তৈরি করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে ফরহাদ ও আরিফার হাতে কনফেকশনারির চাবি হস্তান্তর করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।

জানা গেছে, সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়ার খর্বাকৃতির ফরহাদ মিয়া পেশায় রূপার চেইনের কারিগর। গত দেড় বছর আগে আরেক আরিফাকে বিয়ে করেন ফরহাদ। বিয়ের পর তাদের দুজনকে আলাদা করে দেন বাবা মন মিয়া। আরেকজনের জায়গায় বছরে ৭ হাজার টাকা চুক্তি ভাড়াতে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন তারা দুজন। নতুন এই সংসারে তাদের সুখের অভাব ছিলো না। ফরহাদ প্রতি চেইনে ১৩ টাকা করে আয় করেন ফরহাদ। প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৬টি চেইন তৈরি করতে পারেন। তবে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এখন দিনে ৭ থেকে ৮টি চেইন তৈরি করতে পারেন। সেই অনুযায়ী বর্তমানে তাদের দৈনিক আয় ১০৪ টাকা। এছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতায় তিন মাস পরপর পান ২ হাজার ৫৫০ টাকা। দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির বাজারে এই অর্থে দুজনের সংসার চালিয়ে নেওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে তাদের সংসারে হানা দেয় অর্থাভাব।

আরও পড়ুন:
সুখ থাকলেও অর্থাভাবে বিপর্যস্ত খর্বাকৃতির ফরহাদ-আরিফার সংসার

এই দম্পতির এই বিষয়টি নিয়ে জাগো নিউজে সংবাদ প্রচারিত হলে নজরে আসে জেলা প্রশাসনের। পরে তাদের বিষয়টি দেখতে জেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়াকে। এই নির্দেশনার পর পর ইউএনও প্রাথমিক অবস্থায় তাদেরকে অর্থ সহায়তা দেন। নিজে উদ্যোগ নেন এই খর্বাকৃতির দম্পতিতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার। পরে উপজেলা প্রশাসন থেকে সদর উপজেলার উলচাপাড়া গ্রামে রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের পাশে তাদের জন্যে সরকারি জায়গায় একটি কনফেকশনারি তৈরি করে দেওয়া হয়। সোমবার এই দোকান ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাজিল্লুর রহমান রাশেদ, রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, এটি একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। শারীরিকভাবে খাটো হওয়ায় সমাজে তারা অনেক সময় স্বাভাবিক কাজের সুযোগ পান না, অনেকেই তাদের কাজে নিতে আগ্রহ দেখান না। সে কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য হালাল উপায়ে জীবিকা নির্বাহের একটি ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এমন একটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। আমাদের ইউএনও অত্যন্ত সুন্দরভাবে তাদের জন্য একটি দোকান করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় যদি আর্থিকসহ কোনো ধরনের অতিরিক্ত সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এনএইচআর/এএসএম