রাজশাহী
হাসপাতালে মিলছে না জলাতঙ্কের টিকা, ফিরে যাচ্ছেন রোগীরা
জলাতঙ্ক টিকা/ছবি-সংগৃহীত
রাজশাহী বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্কের টিকার তীব্র সংকট চলছে। সরবরাহ ও মজুত না থাকায় এক মাসের বেশি সময় ধরে টিকা পাচ্ছেন না কুকুর বা অন্য প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
হাসপাতালে টিকা না পেয়ে বাধ্য হয়েই বেসরকারি ফার্মেসিতে ধরনা দিচ্ছেন রোগীর স্বজনরা। তবে সেখানেও অপ্রতুল টিকা। মিললেও কিনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি দামে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সারাদেশে জলাতঙ্কের টিকার সরবরাহ বন্ধ।
কুকুরের আঁচড়ে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন চব্বিশ নগরের সুরাতন বিবি। হাসপাতালে এসে তিনি যখন জানতে পারেন টিকা নেই। তখন তার চোখে-মুখে আতঙ্ক ভর করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সরবরাহ নেই। পরে বাইরের ফার্মেসিগুলোতেও তিনি একই চিত্র দেখেন। নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব ওই নারী বলেন, ‘কুকুরে কামড় দিছে, টিকা পাইতাছি না। কী হবে আমার?’
হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা নিতে আসা রোগীরা বলছেন, হাসপাতাল থেকে ফার্মেসি কোথাও টিকা পাওয়া যাচ্ছে না। দু-এক জায়গায় পাওয়া গেলেও দাম নিচ্ছে আকাশচুম্বী। ৪০০ টাকার ওষুধ এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালগুলোতে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ জলাতঙ্কের টিকার প্রয়োজন হয়। প্রতি বছর শুধু রাজশাহী মেডিকেলেই প্রয়োজন হয় এক লাখ ৮ হাজার ডোজ। এছাড়া নওগাঁয় পাঁচ হাজার, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ হাজার, নাটোরে ১২ হাজার, পাবনায় ছয় হাজার, সিরাজগঞ্জে পাঁচ হাজার এবং জয়পুরহাটে ১৮ হাজার ডোজ টিকার প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে মজুত শূন্যের কোঠায়।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২৫০-৩০০ রোগী জলাতঙ্কের টিকা নিতে হাসপাতালে আসছেন। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় তাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশেই জলাতঙ্কের টিকার ঘাটতি রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। সরবরাহ পেলেই আমরা রোগীদের টিকা দেবো।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সারাদেশে জলাতঙ্কের টিকার ঘাটতি রয়েছে। সহসা এর সমাধান সম্ভব নয়। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
সাখাওয়াত হোসেন/এসআর/এএসএম