ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নেত্রকোনায় ভাগ্য বদলে ৬ রাস্তা নির্মাণ শুরু করলেন গ্রামবাসী

জেলা প্রতিনিধি | নেত্রকোনা | প্রকাশিত: ১২:০১ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

স্বাধীনতার পর থেকে বারবার সরকার বদল হলেও ভাগ্য বদল হয়নি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের অন্তত দশটি গ্রামের মানুষের। তাই এবার নিজেদের টাকায় ছয়টি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে গ্রামবাসী।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাস্তার কাজের উদ্বোধন করে কেন্দুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার পাঁচ বছরের এক শিশু। শিশুটির নাম মাহফুজুল হাসান সানি। এসময় রাস্তা নির্মাণ কাজের মূল পরিকল্পনাকারী লেখক ও সংগঠক আবুল কালাম আল আজাদ, স্থানীয় বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনসহ পাড়াদুর্গাপুর গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এ গ্রামের লোকজন চরম দুর্ভোগ সহ্য করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরেই। গ্রামের মাটির রাস্তাগুলো একেবারে সরু ও যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে গ্রামবাসীর দুর্ভোগ বেড়ে যায়। তখন রাস্তাগুলো দিয়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। এ অবস্থায় স্থানীয়রা বৈঠক করে নিজেরাই টাকা সংগ্রহ করে গ্রামটির ৬টি মাটির রাস্তার তিন কিলোমিটার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। এতে খরচ হবে ছয় লাখ টাকা। বুধবার বিকেলে ভেকু মেশিনের মাধ্যমে শুরু হয় রাস্তা নির্মাণের কাজ।

স্থানীয়রা আরও জানায়, পাড়া দুর্গাপুর গ্রামে ৫ হাজার মানুষের বসবাস। এরমধ্যে অর্ধেকেই নারী। শিক্ষার হার ৮০ শতাংশ। চাকরিজীবী ও প্রবাসী রয়েছে দুই শতাধিক। গ্রামটিতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চারটি মাদরাসা ও তিনটি মসজিদ রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের দীর্ঘদিনের অবহেলায় গ্রামটি পর্যাপ্ত যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

চারদিকে পানি বেষ্টিত এই জনপদ বছরের একটি সময়ে মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় গ্রামবাসীর। গ্রামের রাস্তাগুলো সরু হওয়ায় কোনো অটোরিকশাও প্রবেশ করতে পারে না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ সহ্য করতে হয় স্কুল-কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থী ও রোগীদের।

এই সংকট নিরসনে পাড়াদুর্গাপুর গ্রামের সন্তান লেখক ও সংগঠক আবুল কালাম আল আজাদের পরিকল্পনায় গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয় এবং গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) বৈঠক করে নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তাগুলো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। এরই মধ্যে গ্রামের লোকজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করে প্রায় ৫ লাখ টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এই ৬টি রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ১১টি রিং কালভার্ট এবং ২টি বক্স কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ এখলাছ উদ্দিন, আব্দুস সোবাহান, আব্দুর রহমান, মমিনুল হক, মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, ইঞ্জিল মিয়া, আব্দুল আজিজ ও মজনু মিয়া জানান, রাস্তাগুলো নির্মিত হলে এলাকার প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে হাওরাঞ্চলের কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে। রোগীরা দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাবেন এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত হবে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন।

উদ্যোগটির মূল পরিকল্পনাকারী আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই আমাদের পাড়াদুর্গাপুর গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ দেখে দেখে বড় হয়েছি। এখনও সে দুর্ভোগের শেষ হয়নি। স্থানীয় সরকার বা জনপ্রতিনিধিরাও গ্রামটির প্রতি সুদৃষ্টি দেননি। তাই গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা নিজেদের টাকায় গ্রামের ৬টি মাটির সরু রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আশা করি, রাস্তাগুলো নির্মাণ শেষ হলে লোকজন তার সুফল ভোগ করবেন।

স্থানীয় বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক শাহাদাত হোসেন বলেন, গ্রামবাসীর উদ্যোগে নিজেদের টাকায় রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি খুবই প্রশংসনীয়। সরকারের পক্ষে সব সময় সব কাজ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এভাবে নিজেদের কাজ নিজেরা করে নিতে পারলে দেশটাই দ্রুত বদলে যাবে বলে বিশ্বাস করি। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে থেকে পাড়াদুর্গাপুর গ্রামের রাস্তা নির্মাণ কাজে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করবো।

এইচ এম কামাল/এফএ/এমএস