ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পাবনায় পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন কারাবন্দিসহ ১৮ হাজার ৪৯৮ ভোটার

জেলা প্রতিনিধি | পাবনা | প্রকাশিত: ১২:১৪ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনার পাঁচটি আসনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ১৮ হাজার ৪৯৮ জন ভোটার। এর মধ্যে ১১২ কারাবন্দি ও প্রায় সাড়ে ৬ হাজার প্রবাসী রয়েছেন। তবে গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত জেলার মোট ১৯ হাজার ৯৩ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে আবেদন করলেও ১৮ হাজার ৪৯৮ জন ভোটারের আবেন অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ৯টি উপজেলা নিয়ে জেলায় আসন সংখ্যা পাঁচটি। এসব আসনে প্রথমবারের মত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১২ জন কারাবন্দী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে করা রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন পেয়েছেন। এছাড়া জেলায় ৬ হাজার ৫৩৮ জন প্রবাসী, ৯ হাজার ৮৭৯ জন সরকারি চাকরীজীবী, ২ হাজার ৪৬৪ জন নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৪৩ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে করা রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন পেয়েছেন। পোস্টাল ব্যালটে ভোটের জন্য বেশি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত পাবনা ১ আসন। আসনটিতে এ ব্যবস্থায় অনুমোদিত ভোটার ৪ হাজার ১৫৫ জন। এছাড়া সুজানগর ও আমিনপুর নিয়ে গঠিত পাবনা ২ আসনে ৩ হাজার ৭৩৫, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর নিয়ে পাবনা ৩ আসনে ৩ হাজার ৮৮২, ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া নিয়ে পাবনা ৪ এ ২ হাজার ৯৪৫ ও সদর বা পাবনা ৫ আসনে ৩ হাজার ৭৮১ জন ভোটার অনুমোদন পেয়েছেন।

পাবনা জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মুহম্মদ মোশারফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, কারাবন্দি, প্রবাসী বা অন্যান্য অনেকই আগে নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনে। তবে তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ বা ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তাই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন এই ব্যবস্থা রেখেছেন। যাতে সংশ্লিষ্টরা ভোট দিতে পারেন।

ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে এ কর্মকর্তা বলেন, এই ব্যবস্থায় ভোট প্রদানের আমাদের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই। যাদের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন ও অনুমোদন হয়েছে তাদের কাছে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে পাঠানো শুরুও হয়েছে। এ ব্যালটের সঙ্গে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া থাকবে। সে অনুযায়ী ভোটার সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে ভোট সম্পন্ন করে নিরাপদ খামে ভরে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে জমা দেবেন। সেটি তার নির্বাচনী এলাকার রিটানিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে যাবে।

তিনি বলেন, আমি নিজেও পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদান করবো। আমিও একই পদ্ধতি অনুসরণ করব। চাইলে ব্যালট হাতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ ভোট দিয়ে ব্যালট পাঠাতে পারবো। আবার চাইলে সময় নিয়ে অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেকোনো সময় ভোট সম্পন্ন করে ব্যালট পাঠাতে পারবো। সবার জন্য একই পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ভোট একদম নিরাপদ।

গত ১৮ নভেম্বর উদ্বোধন হওয়া এই অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বের ১৪৮টি দেশ থেকে প্রবাসীরা তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের মোবাইলফোন নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধিত হতে পেরেছেন। নির্বাচন কমিশন ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ নামের অ্যাপের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে আগ্রহী ব্যক্তিরা নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিরা এবং দেশে নিজ এলাকার বাইরে থাকা সরকারি কর্মচারী, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা এবং কারাগারের কয়েদিরা এই অ্যাপে নিবন্ধন করেন।

একাধিকবার সময় বাড়িয়ে এই নিবন্ধন শেষ হয় ৫ জানুয়ারি। যেসব আসনে কম ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়, সেসব আসনে ফলাফল নির্ধারণে পোস্টাল ব্যালটের প্রভাব থাকবে বলে মনে করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

আলমগীর হোসাইন নাবিল/এনএইচআর/এমএস