সমালোচনার মুখে রাজশাহী বোর্ডের সেই ৬০ কর্মচারীর স্থায়ীকরণ স্থগিত
নিয়ম লঙ্ঘন ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অভিযোগে ৬০ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে স্থায়ী করার উদ্যোগ স্থগিত করেছে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বোর্ড কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ ন ম মোফাখখারুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা এবং স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের পরামর্শের পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো যাচাই না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।
বোর্ড সূত্র জানায়, গত বছরের আগস্টে ১৫ থেকে ৩০ বছর ধরে দৈনিকভিত্তিক কর্মরত ৬০ কর্মচারীকে স্থায়ী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সম্প্রতি একটি অভ্যন্তরীণ যাচাই-বাছাই কমিটি আবেদন গ্রহণ, কাগজপত্র পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার শেষে সুপারিশ করে। গত ২৭ জানুয়ারির বোর্ড সভায় সেই সুপারিশ অনুমোদিত হয়। সোমবার থেকে নিয়োগপত্র বিতরণ শুরুর প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল।
তবে বোর্ডের চাকরিবিধি অনুযায়ী, স্থায়ী শূন্য পদে সরাসরি নিয়োগ দিতে হলে জাতীয় বা স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বাধ্যতামূলক। এ ক্ষেত্রে কোনো উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বাইরের সম্ভাব্য প্রার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পাননি। এছাড়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও ওঠে। যার পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ প্রক্রিয়াটি স্থগিত করে।
আরও পড়ুন: রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ৬০ জনকে নিয়োগ
বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ ন ম মোফাখখারুল ইসলাম আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মচারীদের মানবিক দিক বিবেচনায় এবং উচ্চ আদালতের এক নির্দেশনার আলোকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই নির্দেশনায় শূন্য পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কর্মরত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, বোর্ড দৈনিকভিত্তিক কর্মচারীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করে একটি অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। একটি কমিটি তাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে সুপারিশ তৈরি করে, যা গত ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়।
বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ায় আপাতত প্রক্রিয়াটি স্থগিত রাখা হয়েছে জানিয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, অর্থ লেনদেনের অভিযোগসহ বিষয়টি পর্যালোচনা করে স্থায়ীকরণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাখাওয়াত হোসেন/এসআর/জেআইএম