ট্রাকচাপায় থেমে গেলো সেন্টমার্টিনের পর্যটন উদ্যোক্তা মালেকের জীবন
আবদুল মালেক/ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারে ট্রাকচাপায় থেমে গেছে সেন্টমার্টিনের তরুণ পর্যটন উদ্যোক্তা আবদুল মালেকের (৩৪) জীবন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সদর উপজেলার ঝিলংজা দরগাপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এসময় ট্রাকচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার আরোহী মালেক ঘটনাস্থলে নিহত ও আরও দুজন গুরুতর আহত হন।
মালেক সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়ার মৃত আলী হোসেনের ছেলে। তিনি দ্বীপে সি-প্রবাল নামের একটি রিসোর্টের মালিক ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম ডিগ্রি সম্পন্ন করে মালেক জড়িত হন পর্যটন ব্যবসা, সাংবাদিকতা ও কনটেন্ট তৈরির কাজে। রিসোর্ট পরিচালনার পাশাপাশি তিনি কক্সবাজারের স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় সেন্টমার্টিন প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। তবে বছরে তিন মাস পর্যটন খোলা থাকা সেন্টমার্টিনে অন্য ব্যবসায়ীদের মতো আর্থিক সংকটে পড়ে যান মালেক। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারির পর এখানে পর্যটন বন্ধ হলে তিনি জীবিকার জন্য সৌদি আরবে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এজন্য চলছিল প্রশিক্ষণ।
বুধবার বিকেলে রামুর জোয়ারিয়ানালা এলাকার প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে ইফতার করতে অটোরিকশায় করে কক্সবাজার শহরে ফিরছিলেন মালেক। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক রিকশাকে চাপা দিলে তা দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মালেককে মৃত ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমিউদ্দিন জানান, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘টগবগে যুবক আবদুল মালেক। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ও অসুখ-বিসুখ না থাকলেও দ্রুতই তিনি পরপারের বাসিন্দা হবেন- এমনটি তার মনে মনে ধারণা হয়েছিল কি না জানি না। কারণ, মালেক নিজের ফেসবুকের বায়োতে লিখেছিলেন, “মৃত্যুর পর আমার লাশটি জন্মভূমি সেন্টমার্টিনে নিয়ে বাবা-মায়ের কবরের পাশে শায়িত করিও।” কে জানত, তার অন্তিম ইচ্ছা এত দ্রুত পূরণ হয়ে যাবে এভাবে।’
এসএএল/একিউএফ