ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জেলেপ্রতি ৬-১০ কেজি কম

চেয়ারম্যান বললেন ‘আমার ইউনিয়নে কত কেজি চাল দেবো, সেটা আমার ব্যাপার’

জেলা প্রতিনিধি | শরীয়তপুর | প্রকাশিত: ০৯:৩১ পিএম, ০৩ মার্চ ২০২৬

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে জেলেদের জন্য বরাদ্দের চাল কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। প্রত্যেক জেলের ৮০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের ৬-১০ কেজি করে চাল কম দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়, উপকারভোগী ও প্রশাসন সূত্র জানায়, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে পদ্মা ও মেঘনা নদীর অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের পাঁচটি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত প্রত্যেক জেলেকে ৮০ কেজি করে চাল দেয় সরকার। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হাজার ৮১৮ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছে। এদের মধ্যে দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নে রয়েছে এক হাজার ৫০ জন জেলে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে এই ইউনিয়নের জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ শুরু করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে চাল বিতরণ করার কথা। তবে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেদরগঞ্জ উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান সরকার উপস্থিত হওয়ার আগেই সকাল ৭টা থেকে চাল বিতরণ শুরু করেন দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সেকান্দার খান ও তার লোকজন। প্রত্যেক জেলেকে দুটি বস্তার মাধ্যমে ৮০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ৬-১০ কেজি চাল কম দেন তারা।

দক্ষিণ তারাবুনিয়ার জেলে রকিব মাঝি। সকালে চাল নিতে আসেন তিনি। সকাল ১০টায় পরিষদের সামনে তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‌‘আমাকে আজ ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু দেওয়া হয়েছে ৭০ কেজি। বাকি চাল কী করেছে সেটা বলতে পারছি না। আমি জিজ্ঞেস করলাম চাল কম দিয়েছেন কেন। তার বললো, কম এসেছে তাই কম দিয়েছি। কী করবো বলেন? আমরা গরিব মানুষ, কথা বললে কে শুনবে?’

চেয়ারম্যান বললেন ‘আমার ইউনিয়নে কত কেজি চাল দেবো, সেটা আমার ব্যাপার’

মালবাজার এলাকার ফয়সাল হোসেন। বাবার নামের চাল নিতে এসেছেন। দুপুরে কথা হয় তার সঙ্গে। ফয়সাল বলেন, ‘আমাদের বলেছে দুই কিস্তিতে ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ এসেছে। চাল মেপে দেখা যায় ৭২ কেজি হয়েছে। চেয়ারম্যান বললো, উপজেলা থেকে চাল কম দিয়েছে তাই কম দিছি। তার কথা শুনে কিছু বলার সাহস পাইনি।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান সেকান্দার খান বলেন, ‘আমি সঠিক মাপে চাল দিচ্ছি, কোনো সমস্যা নেই।’

চাল কম দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে আমি কত কেজি চাল দেবো, সেটা আমার ব্যাপার।’

দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার ও উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান সরকার বলেন, ‘দুই তিন কেজি করে কম দিচ্ছি, এর বেশি নয়। বুঝেন তো বস্তায় কিছু চাল কম থাকে।’

দু তিন কেজি কম দিতে পারেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে চেয়ারম্যান ও সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমি এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক বলেন, অনিয়মের সংবাদ পেয়ে সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সিনিয়র মৎস কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি। তারা সেখানে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছেন। তাদের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিধান মজুমদার অনি/এসআর/এমএস