ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নিজেকে জীবিত প্রমাণে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ‘মৃত’ আব্দুল মজিত

জেলা প্রতিনিধি | নেত্রকোনা | প্রকাশিত: ০৩:২৮ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

বাস্তবে তিনি বেঁচে আছেন, শ্বাস নিচ্ছেন, কথা বলছেন। অথচ সরকারি নথিতে তিনি মৃত। একটি ভুল তথ্যের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে তার একমাত্র আর্থিক সহায়তা, বয়স্ক ভাতা। এমন পরিস্থিতিতে পড়ে অসহায় জীবন পার করছেন নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামের ৯০ বছর বয়সি আব্দুল মজিত।

আব্দুল মজিত জানান, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি নিয়মিত বয়ষ্ক ভাতা পেয়ে আসছিলেন। তবে দেড় বছর আগে হঠাৎ করেই সেই ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানেন, সরকারি তালিকায় তাকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আগে ভাতার টাকা পাইলে ওষুধ কিনতাম, ভালো কিছু খাইতাম। এখন দেড় বছর ধইরা টাকা পাই না। বুড়া হইছি, ভালো কিছু খাইতে মন চায়। আল্লাহ যদি দয়া করে তাহলে টাকাডা পাইতাম, একটু শান্তিতে বাঁচতে পারতাম।’

মজিতের ছেলে আবুল বাসার বলেন, ভাতা বন্ধ হওয়ার পর তিনি উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরে যোগাযোগ করেন। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তার বাবাকে মৃত দেখানো হয়েছে। পরে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে অফিসে গেলেও কোনো সমাধান হয়নি।

ঘটনাটি স্থানীয়দের মাঝেও বিস্ময় তৈরি করেছে। এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ফকির বলেন, চোখের সামনে জীবিত একজন মানুষকে কাগজে মৃত দেখানো চরম অবহেলার পরিচয়।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চন্ডিগড় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো হালনাগাদ তালিকায় আব্দুল মজিতকে মৃত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি একটি মৃত্যু সনদ জমা দেওয়া হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তার মৃত্যু হয়েছে। এর ভিত্তিতে তার পরিবর্তে একই এলাকার আবুল কালাম নামে আরেকজন ভাতা পাচ্ছেন।

তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তথ্য হালনাগাদের সময় তিনি আব্দুল মজিতকে মৃত হিসেবে দেখাননি।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুল তালুকদার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো তালিকার ভিত্তিতেই প্রতিস্থাপন কার্যক্রম করা হয়। সেখানে তাকে মৃত দেখানো হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রত্যয়নপত্রও দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি এখন তাদের নজরে এসেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুতই তিনি আবার ভাতা পাবেন।

এইচ এম কামাল/এফএ/জেআইএম