ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সাত বছরেও শেষ হয়নি খুলনা সদর হাসপাতালের ভবন নির্মাণ

জেলা প্রতিনিধি | খুলনা | প্রকাশিত: ০৪:১৬ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রকল্প জটিলতা আর সিন্ডিকেটের কারনে খুলনা সদর হাসপাতালের ২০১৭ সালে শুরু হওয়া নতুন ভবন নির্মাণ কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। পুরাতন ভবনে টানা-হেচরার মধ্যে দিতে হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। তবে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে জানিয়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু বর্তমান প্রকল্প শেষ হলেও বাকি থাকবে আরও চার তলার কাজ।

খুলনা গণপূর্ত অধিদপ্তর-১ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রকল্প অনুমোদনের পর ২০১৮ সালের আগস্টে কাজ শুরুর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করে দরপত্র আহ্বান করে প্রায় তিন বছর পর ২০২০ সালে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। করোনাকালীন সময়ে কাজ বন্ধ থাকায় ওই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তখন ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়। সব মিলিয়ে ১২ তলা ভবনের ফাউন্ডেশনে ছয় তলা ভবনের কাজ শেষ করতেই সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে সাত বছর। এরপর নতুন প্রকল্প না থাকায় প্রায় দেড় বছর কাজ বন্ধ ছিল। ঠিকাদার চুক্তি অনুসারে প্রায় ২৪ কোটি টাকার কাজ সমাপ্ত করেছে। ২০২৬ সালে নতুন প্রকল্পের আওতায় বাজেট এনে বাকি কাজ সম্পন্নের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এবার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রায় ২৪ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হবে। সেখানে নতুন করে ভবনে যোগ হবে দুই তলা। এই প্রকল্প শেষ হবে ২০২৭ সালের জুন মাসে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ১২ তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে ২৫০ শয্যার ব্যবস্থা থাকবে। অপারেশন থিয়েটর থাকবে দুইটি, লিফটের ব্যবস্থা থাকবে ৪টি এবং সিঁড়ির পয়েন্ট থাকবে দুই জায়গায়। এছাড়া চারতলা পর্যন্ত জরুরি সেবা থাকবে এবং তারপর থেকে শয্যা ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালের ভেতর থেকে অক্সিজেন লাইনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একজন প্রকৌশলী বলেন, খুলনা সদর হাসপাতালের টেন্ডারের কাজটি তৎকালীন সময়ে ‘জিকে শামীমের’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পেয়েছিল। পরবর্তীতে খুলনার ঠিকাদার মাহাবুব ব্রাদার্স কাজটি সিন্ডিকেট করে নিয়ে নেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী সময়ে মাহাবুব ব্রাদার্সকে রাজনৈতিক ক্ষমতার জোড়ে সব কাজ দিতে হতো। মাহাবুব ব্রাদার্সের একাধিক কাজে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কোনো জবাবদিহিতার মধ্যে তিনি ছিল না। ৫ আগস্টের পর সদর হাসপাতালের প্রায় ৯ কোটি টাকার কাজ না করেই তিনি পালিয়ে গেছেন। পরে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

তিনি বলেন, এছাড়াও সদর হাসপাতালের কাজটি ‘ওপি’ বা অপারেশনাল প্ল্যানের আওয়াতাধীন ছিল। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ‘ওপি’ হলো বহুজাতিক অর্থায়নে পরিচালিত একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প। স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টরের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে এ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসূচি গ্রহণ করা হতো। তবে সম্প্রতি ৩৮টি ওপি বা কর্মসূচি বন্ধ হওয়া অনেক কাজ বন্ধ হয়ে আছে। এজন্য হাসপাতালের কাজ বন্ধ রয়েছে। নতুন প্রকল্পে কাজ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা প্রকল্পের প্রস্তাব দিলে মন্ত্রণালয় ব্যয় করার খাতের নির্দেশ দেয়। তবে এ ধরনের সেবামূলক কাজে একক অনুমোদন হলে ভালো হয়। প্রকল্প অনুমোদন দিয়ে কয়েকটি ধাপে কাজ বাস্তবায়ন করলে কাজ দ্রুত করা সম্ভব। তবে বাজেট এককভাবে অনুমোদন করাটা জরুরি। না হলেউন্নয়ন কাজ থমকে যায়। একই সঙ্গে ঠিাকাদারী সিন্ডিকেটের আওয়াতার বাইরে কাজ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দপ্তরকে নিয়ে কমিটি করা উচিত। তাহলে দুর্নীতি দূর এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

খুলনা গণপূর্ত অধিদপ্তর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু পূর্বের সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজগুলো নতুন প্রকল্পের আওতায় হবে। নতুন করে দুইটি কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে। এই কাজ বাস্তবায়ন হলে নতুন করে দুইটি তালা ভবনে যোগ হবে। এই কাজ সম্পন্ন হলে বাকি কাজে আলাদা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাড. বাবুল হাওলাদার বলেন, প্রকল্পের নামে দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রেখে এবং মেয়াদের পর মেয়াদ বৃদ্ধি করে একটি মহল লাভবান হয়। এগুলো সাধারণ মানুষের সঙ্গে তামাশা ছাড়া কিছু না। চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সদর হাসপাতালে নতুন ভবন নির্মাণে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় রোগী ভোগান্তি বেড়েছে। এছাড়া চিকিৎসা ব্যবস্থায় হয়রানি এবং জটিলতা অনতিবিলম্বে নিরসণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং জনগণের প্রাপ্য চিকিৎসাসেবাকে শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে।

খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট খুলনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন ১২০০ থেকে ১৩০০ রোগী চিকিৎসা সেবার জন্য আসেন। আউটডোর সেবা হাসপাতালের বাইরে উল্টো দিকে দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১০০ শয্যার ব্যবস্থা থাকলেও রোগী আরও বেশী থাকে। তবে নতুন ভবন নির্মাণ হলে আরও ১৫০ শয্যা চালু করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্প জটিলতা আর নানান সমস্যার মধ্যে হাসপাতালের কাজ হয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর আবার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ সম্পন্ন হলে চিকিৎসাসেবা দেওয়ায় জটিলতা আরও কমে আসবে।

ডা. গাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন হলে ১০টি কমন সিসিইউ, ১০টি আইসিইউ এবং ১০টি স্ক্যানো বেড চালু করা হবে। এম আর আই , সিটি স্ক্যান এবং মেমোগ্রাফী সার্ভিস চালু হবে। এছাড়া রাজস্ব খাতে বড় ধরনের জনবলও নিয়োগ হবে।

আরিফুর রহমান/এনএইচআর/জেআইএম