ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আপত্তিকর মন্তব্য

কুষ্টিয়ায় কথিত পীরকে পিটিয়ে হত্যা, আস্তানায় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

জেলা প্রতিনিধি | কুষ্টিয়া | প্রকাশিত: ০৭:১৪ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর (৫২) নামে কথিত এক পীরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এসময় কথিত ওই পীরের আস্তানাও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় অবস্থিত তার নিজ দরবার শরিফে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় শামীমের আরও দুই অনুসারী গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত শামীম ফিলিপনগর এলাকার সামসুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, শামীম রেজা নিজেকে ‘কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরী’র অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন।

হামলাকারীদের অভিযোগ, তিনি নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলো অস্বীকার করে ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচার করতেন। এমনকি অনুসারীদের হজ পালনের জন্য মক্কায় না গিয়ে স্থানীয় একটি বাঁশবাগানের দরবারে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিতেন। এছাড়া তার অনুসারীদের দাফনের সময় প্রচলিত ইসলামী নিয়ম উপেক্ষা করেতেন।

তারা আরও অভিযোগ করেন, কথিত এই পীর নিজেকে কখনও আল্লাহ, কখনও নবী আবার ভগবান দাবি করতেন। এসব কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

সম্প্রতি শামীম তার দরবারে অনুসারীদের উদ্দেশ্যে পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এই মন্তব্যের পর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুর ১টার দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ফিলিপনগর এলাকায় অবস্থিত শামীমের দরবার শরিফ ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে তার দরবারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও একাধিক কক্ষে অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় দরবারের ভেতরে থাকা শামীম ও তার দুই অনুসারী এলোপাথাড়ি পিটুনির শিকার হন।

পরে বিকেল ৩টার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমসহ তিনজনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে শামীম রেজার মৃত্যু হয়। আহত বাকি দুজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫-৬ বছর ধরে শামীম ইসলামের নাম ব্যবহার করে নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এর আগেও গান-বাজনা করে মরদেহ দাফন করাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন।

শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, শামীম বেশ কয়েক বছর ধরে ওই দরবার পরিচালনা করে আসছিলেন।

জানা গেছে, শামীম ঢাকা থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরে এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিতর্কিত ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করেন।

এর আগেও ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা করা হয়। সে সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু করেন।

এদিকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত স্থানীয়রা দরবার শরিফ এলাকা ঘিরে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

আল-মামুন সাগর/এনএইচআর/এমএস