ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থা

প্রকাশিত: ০৬:৫৩ এএম, ২২ জুলাই ২০১৬

নদীতে তীব্র স্রোত, ফেরি স্বল্পতা আর ডুবোচরের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।পদ্মা পারি দিতে ফেরিগুলোর সময় লাগছে আগের চেয়ে দ্বিগুণ। ফলে ট্রিপ সংখ্যা কমে যাওয়ায় ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে যানবাহন। এতে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা পোহাচ্ছেন চরম ভোগান্তি।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী যানবাহনগুলোকে পারাপার করা হলেও দুই প্রান্তে পণ্যবাহী ৬ শতাধিক ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে তিন থেকে চারদিন ধরে। এ অবস্থায় ভোগান্তি এড়াতে ট্রাকগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র স্রোতের। স্বাভাবিক সময়ে একেকটি ফেরি ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটে নদী পার হতে পারলেও বর্তমানে সময় লাগছে দ্বিগুণ। এ কারণে ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। তাছাড়া বেশির ভাগ ফেরিরই স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলাচলের মতো শক্তি নেই। ফলে প্রতিদিনই কোনো না কোনো ফেরি বিকল হচ্ছে।

Manikgong

এছাড়া পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া চ্যানেল মু্খে ডুবোচর জেগে ওঠায় ফেরিগুলো সরাসরি চলাচল করতে পারছে না। এসব কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে ফেরিতে যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।

রো-রো ফেরি ভাষা শহীদ বরকতের মাস্টার ইনচার্জ সিদ্দিকুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, তীব্র স্রোত আর ডুবোচরের কারণে ফেরি চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। ফেরিগুলো অনেক পুরাতন ও লক্কর ঝক্কর হওয়ায় স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো শক্তি নেই। এ কারণে ইঞ্জিন প্রায়ই বিকল হয়ে যাচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শেখ মোহাম্মদ নাসিম জাগো নিউজকে জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে বর্তমানে ছোট বড় মিলিয়ে ১৮টি ফেরি রয়েছে। কিন্তু এর বেশির ভাগই স্রোতের মধ্যে চলাচলের উপযোগী নয়। তারপরও ঝুঁকি নিয়েই ৭টি রো-রোসহ ১১টি ফেরি চলাচল করছে। নদী পারাপারে সময় বেশি লাগায় ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে।

এ কারণে দুই প্রান্তে যানবাহন অপেক্ষমাণ রয়েছে। প্রাকৃতিক এ বির্পযয় কাটিয়ে উঠা না পযন্ত পারাপার স্বাভাবিক হবে না। এ অবস্থায় দুর্ভোগ এড়াতে পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে বঙ্গবন্ধু সেতুসহ বিকল্প পথ ব্যবহারের অনুরোধ জানান তিনি।

Paturia

পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘাটে ফেরির অপেক্ষায় দীর্ঘ যানজটে আটকা থাকতে হচ্ছে তিন থেকে চার ঘণ্টা। ভ্যাপসা গরম আর শ্রাবণের দফায় দফায় বৃষ্টি তাদের ভোগান্তির মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। যানজটে আটকা পড়ে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে বসেই ঘুমাতে দেখা গেছে বেশ কয়েকজন কোচ চালককে। গাড়ির ভেতরে শিশুরা কান্নাকাটি করছে। ফেরির অপেক্ষায় দেখা গেছে লাশবাহী গাড়ি এবং জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সকেও।

এদিকে যাত্রীবাহী বাসগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার হতে পারলেও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া উভয় ঘাটে ৩-৪ দিন ধরে আটকা আছে ৬ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক।

ট্রাক শ্রমিকরা জানান, ঘাটে আটকা থাকার কারে তাদের অনেক পণ্য সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে লোকসান গুণতে হচ্ছে মালিকদের।
ঘাটে যানবাহন শৃঙ্খল ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসাইন জাগো নিউজকে জানান, স্রোত আর ফেরি স্বল্পতার কারণে যানবাহন পারাপারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন শৃঙ্খল রাখতে পুলিশ কাজ করছে। পারাপারের ক্ষেত্রে যাত্রীবাহী যানগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হলেও ফাঁকে ফাঁকে পণ্যবাহী ট্রাকও পারাপার করা হচ্ছে।

বি.এম খোরশেদ/এসএস

আরও পড়ুন