ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সওজের সাড়ে ৫ কোটি টাকা লোপাটের চেষ্টা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চেক জালিয়াতির মাধ্যমে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কোষাগার থেকে এক প্রতারক ঠিকাদার সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা লোপাটের চেষ্টা করেছ। তবে ব্যাংক কর্মকর্তার তৎপরতার কারণে ওই টাকা লোপাট করতে পারেনি। এ নিয়ে শহরে ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সড়ক বিভাগের এক কর্মচারী ও ওই ঠিকাদারের পরস্পর যোগসাজশে মাত্র ২৬ হাজার ৭৯০ টাকার বিপরীতে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল বলে জানা গেছে।
সওজ এবং সদর মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা সদর উপজেলার বজ্রপুরের মো. শরীফ আলমের মালিকানাধীন তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে মেসার্স আবদুল্লাহ্ আল মামুনের নামে সড়ক বিভাগের হিসাব নং ৫০০২, চেক নং-ম-৮৬৯১৩৬ (তারিখঃ ১৮/০৯/২০১৬ইং) চেকে এবং চেকের অ্যাডভাইসে ৯ হাজার ৪ শত টাকার স্থলে দুই কোটি ৯ হাজার ৪শ টাকা, মেসার্স এন.ইসলাম অ্যান্ড কোং এর নামে একই হিসাবে চেক নং-ম-৮৬৯১৩৭ এবং চেকের অ্যাডভাইসে ১১ হাজার ৪৬০ টাকার স্থলে ৩ কোটি ১১ হাজার ৪৬০ টাকা এবং একই হিসাবে মেসার্স হেলাল এন্টারপ্রাইজের নামে চেক নং-ম- ৮৬৯১৩৮ এবং চেকের অ্যাডভাইসে পাঁচ হাজার ৯৩০ এর স্থলে ৫০ লাখ ৫৯৩০ টাকা লিখে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখায় ওই ঠিকাদারের হিসাবে (ঠিকাদার মো. শরীফ আলম) গত ১৯ সেপ্টেম্বর জমা দেয়া হয়।
চেকগুলো পেয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওইদিনই ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ ২৬ হাজার ৭৯০ টাকা সংগ্রহ করে। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যাবস্থাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সড়ক বিভাগের কাছে একটি চিঠি দেন।
ব্যাংক থেকে পাওয়া চিঠির পরই সড়ক বিভাগের টনক নড়ে। সড়ক বিভাগ যাচাই-বাছাই করে দেখতে পায় ওই তিনটি চেকের বিপরীতে মাত্র ২৬ হাজার ৭৯০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। পরে সড়ক বিভাগ ২০ সেপ্টেম্বর এক চিঠির মাধ্যমে গ্রাহককে টাকা না দিতে অনুরোধ জানালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা ট্রান্সফার করে ব্যাংকের হিসাবে নিয়ে যান।
এ ঘটনায় গত ২০ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু এহতেশাম রাশেদ বাদী হয়ে প্রতারক ঠিকাদার মো. শরীফ আলম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের কম্পিউটার অপারেটর আবুল আউয়াল সরকারের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই কম্পিউটার অপারেটর আবুল আউয়াল সরকার পলাতক রয়েছেন।
ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার ব্যবস্থাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, মোটা অঙ্কের অর্থের লেনদেন হলে আমরা গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেই টাকা পরিশোধ করে থাকি। সে হিসেবে সড়ক বিভাগের সঙ্গে কথা বললে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু এহতেশাম রাশেদ সাংবাদিকদের বলেন, আমি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়েছিলাম। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত পাব। এছাড়া ঘটনায় জড়িত কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আজিজুল সঞ্চয়/এআরএ/পিআর