ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শিকদার বাড়িতে চলছে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের আয়োজন

প্রকাশিত: ১০:১০ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬

আগামী ৭ অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠীপূজা। অর্থাৎ বেলগাছের নিচে বোধনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার স্বর্গ থেকে মত্তলোকে আবির্ভাব ঘটবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা ঘিরে বাগেরহাট জেলার ৫৮৯টি মন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের আয়োজন।

শনিবার নবপত্রিকা অর্থাৎ কলাবউকে মণ্ডপে প্রবেশের মধ্য দিয়ে মহাসপ্তমী। রোববার মহাঅষ্টমি, সোমবার মহানবমীর মধ্য দিয়ে দেবীকে আরাধনা এবং পরদিন বিজয় দশমির মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে ৫ দিনব্যাপী এ দুর্গা উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

দুর্গোৎসবের বিষয়ে রোববার দুপুরে জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অমিত রায়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন,  এ বছর দেবীদুর্গা স্বর্গ থেকে মত্তলোকে আসছেন ঘোড়ায় চড়ে। আর যাবেনও ঘোড়ায় চড়ে। জেলার ৫৮৯টি মন্দিরে দুর্গাপূজা সাড়ম্বরে আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে।

puja

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো দাবি করে তিনি বলেন, সবার সার্বিক সহযোগিতায় উৎসব সুন্দর আনন্দঘন পরিবেশে শেষ হবে।  

অমিত রায় আরো বলেন, এ বছর বাংলাদেশর সর্ববৃহৎ এমনকি এশিয়ার মধ্যে ব্যক্তিগত পর্যায়ে অন্যতম দুর্গাপূজা হিসেবে ইতোমধ্যে নাম ছড়িয়েছে বাগেরহাটের শিকদার বাড়ির দুর্গা মন্দিরের। ব্যবসায়ী লিটন সরকারের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেখানকার মন্দিরের আয়োজন এবং নানামুখী অনুষ্ঠান গত কয়েক বছর ধরে দেশব্যাপী আলোচিত হচ্ছে।

সরেজমিনে শিকদার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। শিল্পী ও কারিগরদের নিপুণ হাতের তৈরি প্রতিমায় চলছে রঙসহ অলংকার পরানোর কাজ। এখানে মোট ৬০১টি প্রতিমা রয়েছে। এর মধ্যে শিব পুরানের সতীর দেহত্যাগ, দোক্ষযজ্ঞ, হনুমান, দশানন রাবন, নারদ, প্রহ্লদ প্রতিমা দর্শকদের কাছে উপস্থাপন করতে চলছে কারুকার্য। পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন শিক্ষণীয় দৃশ্য রাখা হয়েছে এ পূর্জামণ্ডপে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে মেশিনের মাধ্যমে রঙ করা হচ্ছে প্রতিমায়। মন্দির প্রাঙ্গণে ৩-৪টি সারির দু’পাশে বাক্সের মধ্যে স্বতন্ত্রভাবে একেকটি প্রতিমার অবস্থান। প্রতিটি প্রতিমার নড়াচড়া হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। ফলে আকর্ষণীয় প্রতিমাগুলো দেখেও অতৃপ্ত থেকে যাবে দর্শক। এমনটাই আশা সবার।  

puja

শিকদারবাড়ি পূজা মণ্ডপের প্রধান কারিগর খুলনার কয়রা উপজেলার হাতিয়ার ডাঙ্গা গ্রামের বিজয়কৃষ্ণ বাছার জানান, ১৪ জন সহকারী নিয়ে গত পাঁচ মাস ধরে তিনি মণ্ডপের বিভিন্ন প্রতিমা তৈরি করেছেন। দুর্গাপূজার অবিচ্ছেদ্য প্রতিমাসহ রামায়ণ ও মহাভারতের বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী ও দেব-দেবীর প্রতিরূপসহ ৬০১টি প্রতিমা স্থাপন করেছেন তিনি। এখন রঙ তুলির কাজসহ চলছে আলোকসজ্জার কাজ।

তিনি আরো জানান, এখানে উল্লেখযোগ্য প্রতিমার মধ্যে রয়েছে, নারায়ণ অন্তশয্যা আছে ক্ষিরত সাগরে, শ্রীকৃষ্ণের পাগলা হাতি বধ, বকাশুর, ক্রু ক্ষেত্রে বিশ্বদেবের যুদ্ধ পরাজয়ের কাহিনী অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

শিকদার বাড়ি পূজা মণ্ডপের সব থেকে বড় আকর্ষণ হলো কৈলাশ পর্বতের কাহিনীর কিছু বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে পুকুরের মধ্যে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের স্নাতকোত্তর দিব্যতনু দাসের নেতৃত্বে ১০ জন শিল্পী পুকুরের মাঝখানে ৪০ ফুট উঁচু টাওয়ারে প্রতিমাটি কৈলাশ পর্বতের অংশবিশেষ স্থাপন করছেন। যেখানে সবার উপরে থাকবে মহাদেব। এরপর রামলক্ষণ, শীতা ও হনুমান। মহাদেব ও রামের হাত আশীর্বাদ করা অবস্থায় থাকবে, যা দেখে মুগ্ধ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও দর্শনার্থীরা।

চারুকলার প্রাক্তন ছাত্র দিব্যতনু দাস বলেন, নিজ উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে শিকদার বাড়ির দুর্গাপূজার প্রধান উদ্যোক্তা লিটন শিকদার ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলি। আমার পরিকল্পনার কথা জেনে তারা রাজি হওয়ার পর থেকেই কাজ শুরু করি।

এ মন্দিরে হর-পারবর্তী পৌরাণিক আর্কষণীয় কাহিনীকে শিল্পের নান্দনিক মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।  সবাইকে নিয়ে চেষ্টা করেছি ভালো কিছু করার। আশা করি ভক্ত দর্শনার্থীদের কাছে বিষয়টি বেশ উপভোগ্য হবে।

puja

মন্দিরে প্রতিমা দেখতে আসা বাগেরহাট শহরের গৌতম দত্ত বলেন, অসম্ভব সুন্দর কারুকাজ এখানকার প্রতিমার। অসংখ্য প্রতিমা দেখে ভালো লাগছে। এর আগে এতো বড় আয়োজন দেখেনি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, আলোকসজ্জার কাজ শেষ হলে এখানকার দুর্গামন্দির সব থেকে আর্কষণীয় হবে।

পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দুলাল শিকদার বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২০১০ সালে ৩০১টি প্রতিমা নিয়ে এই মন্দিরে দুর্গাপূজা শুরু হয়। গত বছর ৪৫১টি প্রতিমা নিয়ে আয়োজন ছিল। এ বছর প্রতিমার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০১টিতে।

তিনি আরো বলেন, প্রথম থেকেই এলাকার মানুষের উৎসাহ, সহযোগিতা ও পরামর্শ নিয়ে আমরা কাজ করছি। ভারতের পশ্চিম বাংলা থেকেও দর্শনার্থীরা শিকদার বাড়িতে মণ্ডপ দর্শন ও পূজা দিতে আসেন। দেড় বিঘা জমির প্রাচীরঘেরা এই মণ্ডপে ভবিষ্যতে ৪৫ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন মন্দিরে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইতোমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উৎসব ও পূজা ঘিরে বিভিন্ন মন্দিরের আয়োজক কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। সার্বিক পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় যথেষ্ট পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

এএম/পিআর