মনপুরার বনে হরিণের ছোটাছুটি
বিকেল ৩টা। বনের পাশে জড়ো কয়েকটি হরিণ। এদের মধ্যে কেউ খাবার খাচ্ছে কেউবা খাবারের সন্ধান করছে। অন্য পাশে দেখা গেলো ছুটে বেড়াচ্ছে বেশ কিছু হরিণ।
সবুজে ঘেরা নরম ঘাসে ছন্দ মিলিয়ে হরিণের এ ছুটে চল দেখা গেলো ভোলার মনপুরার আলমনগর সংলগ্ন কেওড়া বনে। এখানেই দেখা মেলে হরিণের দল। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে এমন চিত্র মুগ্ধ করে দর্শনার্থীদের।
তবে স্থানীয়রা জানালেন, খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে ছুটে আসছে এসব হরিণ। হরিণের এ বিচরণ দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। তবে মাঝে মধ্যে আবার শিকারিদের হাতে মারাও পড়ছে এসব হরিণ।
বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা জনপদ ভোলার মনপুরা উপজেলা। প্রাচীনতম এ উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের আলমনগরে রয়েছে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এখানে নানা প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে। বনের সৌন্দর্য্য বাড়াতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে হরিণ। ৮০`র দশক থেকে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ২ হাজারের অধিক হরিণ রয়েছে।
শুধু আলমনগর নয়, ঢালচর, জনতা বাজার ও প্রজেক্ট এলাকাতেও দেখা মেলে হরিণের। 
গত সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যান্ত বনাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে বনের চারপাশে হরিণের বিচরণ। দল বেধে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে হরিণ। খুব কাছ থেকে হরিণ দেখে কেউ কেউ আবার ক্যামেরাবন্দি করছেন। ছোট, বড় ও মাঝারি আকারের চিত্রা প্রজাতির এ হরিণের ছুটে চলা মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের। হরিণের এ বিচরণকে কেন্দ্র করে সেখানে গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র।
স্থানীয় আবুল কালাম ও সোহাগ বলেন, মনপুরার প্রধান আকর্ষণ হরিণ। খুব কাছ থেকে হরিণ দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভীড় জমান। তবে চোরা শিকারিরা মাঝে মধ্যে হরিণ হত্যা করে মাংস পাচার করছে। যে কারণে বনের হরিণ অনিরাপদ।
স্থানীয়রা আরো জানান, জোয়ারের পানিতে হরিণের বাসস্থান ডুবে গেলে এবং খাদ্য ও মিঠা পানির সঙ্কট দেখা দিলে হরিণ লোকালয়ে চলে আসে। তখন দলবাধা হরিণের দেখা মেলে।
এ ব্যাপারে ভোলার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, হরিণ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ইতমধ্যে ২টি মিঠা পানির পুকুর তৈরি করা হয়েছে। আরো কিছু পুকুর স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে।
তিনি বলেন, বনের খাদ্য সঙ্কট দুর করতে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও যাতে হরিণ শিকার না হয় সেদিকে বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।
এফএ/এমএস