রিকশার প্যাডেলে স্বপ্ন জড়ানো মানিক মিয়ার
বয়স ৬০ ছুঁই ছুঁই। বয়সের ভারে কর্মদক্ষতা প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু এ বয়সেও তাকে রিকশা চালাতে হচ্ছে। আট সদস্যের পরিবারের মুখে খাবার জোগাড় করতে হচ্ছে।
কিন্তু হাল ছাড়েননি মানিক মিয়া। ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে রিকশার প্যাডেলে স্বপ্ন জড়ানো তার। সন্তানদের উচ্চ শিক্ষিত করতে চান তিনি। আর এজন্যই শত কষ্টেও রিকশার চাকায় স্বপ্ন গুনছেন তিনি।
ভোলা সদরের তুলাতলী বাঁধ এলাকার বাসিন্দা মানিক মিয়া। স্ত্রী, চার ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে সংসার তার। ছোটবেলা থেকে রিকশা চালাচ্ছেন। জমিজমা বলতে কিছুই নেই। কুঁড়েঘরে বসতি। তবে বয়স্কভাতা পেয়েছেন তিনি। কিন্তু তাতেও বন্ধ হচ্ছে না অভাবের চাকা।
মানিকা মিয়ার বড় মেয়ে নাসরিন স্থানীয় একটি মাদরাসা থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে এবং ছোট রেশমি নবম শ্রেণিতে পড়ে। এছাড়া বড় ছেলে পঞ্চম শ্রেণি, ছোট ছেলে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাকিরা এখনও ছোট।
মানিক মিয়া জানান, দৈনিক রিকশা চালিয়ে দিন শেষে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পান। তা দিয়ে চাল, ডাল, তেল, নুন আর তরকারি কিনতে হয়। কখনও দুবেলা জুটে কখনও জোটে না। পেটের দায়ে রিকশা চালাই, কিন্তু ছেলে-মেয়েদের মানুষ করতে হবে। মাঝে মধ্যে অসুস্থ শরীরেও রিকশা চালাতে হয়। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমি একাই।
বৃহস্পতিবার সদরের তুলাতলী বাজার ও এর আশে পাশে রিকশো চালাতে দেখা যায় তাকে। তবে বয়স্ক হওয়ায় অনেকেই তার রিকশায় উঠতে চায় না। স্থানীয় ভাষায় বাঙলা রিকশা (ব্যাটারি বিহীন) চালান তিনি। তাই দ্রুত সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে পারেন না। আর তাই আয়-ইনকাম কম মানিক মিয়ার।
শত প্রতিকূলতার মধ্যে মানিক মিয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে তো? নাকি কালো মেঘে ঢেকে যাবে জীবনের গতি পথ এমন আশঙ্কাই এখন তার চোখেমুখে।
এফএ/পিআর