ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সবজিচাষে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছেন ঝালকাঠির নারীরা

প্রকাশিত: ০৫:০৩ এএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৬

ঝালকাঠির নবগ্রাম, গাভারাম চন্দ্রপুর, পোনাবালিয়া, বাসন্ডা ও কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ৩৬ গ্রামে কান্দিতে সবজি আবাদ করে সবুজ বিপ্লব ঘটিয়েছেন নারীরা। প্রায় ৪ হাজার নারী এ মৌসুমি কৃষি কাজে প্রতিবছরই সফলতা এনে স্বচ্ছলতা অর্জন করেন।

স্থানীয়ভাবে এসব সবজিকে বলা হয় লতা কৃষি। নারীদের ফলানো এই সবজি হাটে নিয়ে বিক্রি করেন পুরুষরা। শীতকালীন সবজি আবাদের পাশাপাশি বছরের ১২ মাস উৎপাদিত এ মৌসুমি সবজি বিক্রি করে জীবন জীবিকা চলে শতশত চাষির। তবে কিছু কিছু সড়ক চলাচলের অনুপযোগী এবং বাঁশের সাঁকো থাকায় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।

কারণ উৎপাদিত সবজী সরাসরি সড়ক পথে নিয়ে যেতে না পারায় বাধ্য হয়ে বাড়িতে বসেই পাইকারদের কাছে কম মূল্যে হাটেই বিক্রি করতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিওর সুদের জালে জড়িয়ে পড়ায় এসব চাষিরা ব্যাংক ঋণ নিতে পারছে না। তাই কৃষক বান্ধব এই সরকারের কৃষি ঋণের সুযোগ থেকেও এরা বঞ্চিত হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ চাষিদের জন্য সরকারি বরাদ্দ কৃষি সামগ্রী ও উপকরণ থেকেও বঞ্চিত তারা। এলাকাভিত্তিক চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নেক নজরে থাকা কিছু নির্দষ্ট ব্যক্তিই এসব সুবিধা পেয়ে থাকে।

শীতকালীন সবজী লাউ, কুমড়া, জালি, মূলা, শালগম, ফুলকপি, বরবটি, করলা, সীম, আলু, বোম্বাই মরিচ, কচু, পালন ও লালশাকসহ এমন কোনো সবজী নেই যা এসব গ্রামে ফলানো হয় না। বিষমুক্ত এসব সবজী আবাদ করে লাভবান হওয়ায় এক প্রকার ধান আবাদ ছেড়েই দিয়েছেন চাষিরা। কাঁদিতে সবজীর পাশাপাশি আখ, আমড়া, পেপে ও পেয়ারার আবাদ করেও লাভবান হচ্ছেন তারা।

এ ব্যাপারে নবগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ কাফুরকাঠি গ্রামের চাষি রনজীৎ ও সন্ধ্যা রানি জানান, আমাদের নিজেদের জমি না থাকায় অন্যের জমিতে কাজ করে ফসল ফলাই। বিনিময়ে মালিকের কাছ থেকে পাওয়া পারিশ্রমিক দিয়েই চলছে সংসার।

একই গ্রামের চাষি সুধীর চন্দ্র বড়াল বলেন, আমারা বাৎসরিক লিজ নিয়ে জমিতে সবজি আবাদ করছি। এনজিও থেকে সুদে টাকা এনে এই কাজ করায় মূনাফার বেশির ভাগই তারা হাতিয়ে নিয়ে যায়। তবে সড়ক পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি।

jhalakati

শতদশকাঠি গ্রামের অপর চাষি সুকেশ হালদার জানান, এ বছর ১০ কাঠা জমিতে করলা আবাদ করে ইতোমধ্যেই ১৭ হাজার টাকা পেয়েছি। আরো ৩০ হাজার টাকা মূল্যের করলার ফলন পাবো বলে আশা করছি।

অপর কৃষাণী কাজল হালদার জানান, আমি কাঁদি কুপিয়ে আলু ও কচু লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই এলাকার জমি নিঁচু থাকার কারণে কোথাও ধানের আবাদ না করায় কাঁদিতেই বারো মাস সবজি আবাদ করছি। নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকায় সূদে টাকা এনে আমাদের আবাদ করতে হচ্ছে। ব্যাংকে গেলে জমির পর্চা বা দলিলসহ বিভিন্ন কাগজ লাগে। আমাগো জমি না থাকায় এসব কাগজ দিতে পারিনা বলেই সূদে টাকা আনতে বাধ্য হচ্ছি।

ডুমুরিয়া গ্রামের সুরেন হালদার বলেন, স্থানীয় হাটের পাইকারদের কাছে আমরা জিম্মী। কারণ আমাদের এ এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নৌকা। তাই বাগান থেকে নৌকায় সবজি নিয়ে হাটে গেলে পাইকারদের দরেই দিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছি। যদি সড়ক পথে এসব সবজি শহরে নিয়ে যেতে পারতাম তাহলে দাম বেশি পেতাম।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শেখ মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, ঝালকাঠির প্রত্যন্ত এলাকায় শীতকালীন সবজি চাষ একটি দৃষ্টান্ত। চাষের শুরুর দিকে নারী-পুরুষ উভয়ে মিলে কাজ করেন। পরে পুরুষরা বাজারজাতকরণে এবং নারীরা পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন।

সবমিলিয়ে জেলার ৩৬টি গ্রামের প্রায় ৪ হাজার নারী এ কৃষি কাজে সফল হয়েছেন। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের যাবতীয় পরামর্শ এবং সাধ্যমত সহযোগিতা করা হয় বলেও জানান কৃষি বিভাগের এ শীর্ষ কর্মকর্তা।     

আতিকুর রহমান/এফএ/এমএস