ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শরীয়তপুরী জর্দার গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ

প্রকাশিত: ০৬:৪৮ এএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৬

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বরে  শরীয়তপুরী জর্দার গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এতে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকেই।

কনেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কনেশ্বর এস.সি. এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউশন  ও কনেশ্বর আলহাজ্ব আলী আহম্মদ দাখিল মাদরাসা সংলগ্ন কনেশ্বর বাজারের মেইন সড়কে শুকাতে দেয়া শরীয়তপুরী জর্দার (মনিকা কেমিক্যাল কোম্পানি) কাঁচামাল তামাক ও প্রক্রিয়াকৃত তামাক দ্রব্যের গন্ধে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বাজার ব্যবসায়ী, পথচারী ও  স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পরছে।

শরীয়তপুরী জর্দার (মনিকা কেমিক্যাল কোম্পানি) দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কনেশ্বর বাজারের মেইন সড়কে জর্দা তৈরির কাঁচামাল রোদে শুকাতে দেয়। এই জর্দার কাঁচামালের দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পরে। এতে কাশি, যক্ষ্মা, আমাশয়, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয়রা। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

কনেশ্বর বাজার ব্যবসায়ী ইব্রাহীম মাদবর বলেন, জর্দ্দার দুর্গন্ধে দোকান বন্ধ রাখতে হয়। দুর্গন্ধে দোকান করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। প্রায়ই আমরা অসুস্থ হয়ে পরি। তাই যেদিন জর্দা রোদ না দেয় সেদিন আমরা দোকান করি।

পথচারী আবু হালেম, সোহেল ফকির, মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তাটি দিয়ে আমাদের যাতায়াত । জর্দার দুর্গন্ধে আমাদের পেট ফুলে যায়। এগুলো যা তা অবস্থা।

স্থানীয়রা বলেন, আমাদের এলাকায় যক্ষ্মা, কাশি ও শ্বাস কষ্টের রোগী বেড়েই চলেছে। জর্দার দুর্গন্ধে ঘরে থাকা কষ্টকর। আমরা অনেক বলেছি জর্দার কারখানা লোকালয়ের বাইরে নিয়ে যান এবং জর্দা তৈরির কাঁচামাল অন্য জায়গায় সরিয়ে রোদে শুকান। কিন্তু তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের কথা কানে দেন না।  

কনেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কনেশ্বর এস.সি. এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউশননের শিক্ষার্থী আশিক হোসেন, সাদিয়া আক্তার ও তামান্না আক্তার বলেন, দুর্গন্ধে আমাদের কয়েক বন্ধু বমি করেছে। তিন দিন ধরে ওরা বিদ্যালয়ে আসে না। যত দ্রুত সম্ভব শরীয়তপুরী জর্দার কারখানা সরিয়ে অন্যত্র নেয়া ও জর্দা তৈরির কাঁচামাল অন্যত্র সরিয়ে শুকাতে দেয়া উচিৎ।

Shariatpuri

কনেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামিমা ইয়াসমিন বলেন, আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই কনেশ্বর বাজারের সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়িত যাতায়াত করে। জর্দার দুর্গন্ধে আমার বিদ্যালয়ের অনেক শিশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জর্দার পাতাগুলা গুড়া করে সড়কের উপর রোদ দিলে একটি বিশ্রী গন্ধ বের হয়। বাতাসের সাথে এ গন্ধ আমাদের বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে ঢুকলে ক্লাস করতে কষ্ট হয়।

কনেশ্বর এস.সি. এডওয়ার্ড ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মো. মোকসেদুর রহমান বলেন,  আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করি। জর্দার দুর্গন্ধে অনেকেই শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

শরীয়তপুরী জর্দা কোম্পানির সত্ত্বাধিকারীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সম্ভব হলে জর্দার কাঁচামাল তামাক ও প্রক্রিয়াকৃত তামাক দ্রব্য অন্যত্র সরিয়ে নেন। অন্যথায় আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কমতে থাকবে। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হবে।

শরীয়তপুরী জর্দার (মনিকা কেমিক্যাল কোম্পানি) সত্ত্বাধিকারী কামাল সরদারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো কোনো  ছাত্র-ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে গন্ধ ছড়িয়ে দিয়ে ক্ষতি করি না। আমি জর্দার কাঁচামাল ও প্রক্রিয়াকৃত তামাক দ্রব্য এই বাজার রোডে সপ্তাহে এক দিন শুকাতে দেই। এতে কারো সমস্যা হওয়ার কথা না।

Shariatpuri

মনিকা কেমিক্যাল কোম্পানির সনদপত্র আছে কি না জানতে চাইলে কামাল সরদার বলেন, আমার কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন, বিএসটিআই সনদ, ক্যামিস্ট, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র সবই আমি। আপনি আসুন আপনাকে সঠিকভাবে কাগজপত্র দেখানোর মতো অনেক লোক আছে।

কনেশ্বর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান বাচ্চু বলেন, জর্দার কাঁচামাল ও প্রক্রিয়াকৃত তামাক দ্রব্যের গন্ধে শিক্ষার্থীদের অনেকেই অসুস্থ হয়ে পরছে। জর্দা কামাল নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কাজ করে চলেছে।

ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুসা খান বলেন, তামাক বা জর্দ্দার গন্ধে শ্বাসকষ্ট, কাশি, আমাশয়, চোখের রোগ কিংবা যক্ষ্মা রোগ হতে পারে । বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা এ রোগগুলোতে বেশি আক্রান্ত হয়।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এখনই খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

মো. ছগির হোসেন/আরএআর/এমএস