ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গাজীপুর মুক্ত দিবস আজ

প্রকাশিত: ০৩:৫৮ এএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬

১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এইদিনে বর্বর পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের নেতৃত্বে গাজীপুর মুক্ত হয়েছিল। প্রতি বছরের ১৫ ডিসেম্বরের এই দিনটি গাজীপুরবাসীর জন্য অত্যন্ত স্মরণীয় ও গর্বের দিন।

তবে এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজীপুর-ঢাকা মহাসড়কের ছয়দানা এলাকা দিয়ে ঢাকার দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় পাক হানাদার বাহিনীর বিরাট একটি কনভয়ের উপর মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর উপর্যুপরি প্রচণ্ড গোলা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় গাজীপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধারা সম্মিলিতভাবে প্রবেশ করতে পারেনি।

পরদিন ১৬ ডিসেম্বর খুব ভোরে বিজয়ীর বেশে মুক্তিযোদ্ধারা গাজীপুরে প্রবেশ করে। অবশ্য বেশ কয়েকজন অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা ১৫ ডিসেম্বর রাতেই গাজীপুরে প্রবেশ করে।

১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার জয়দেবপুর, যা বর্তমানের গাজীপুর। ওই দিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে জয়দেবপুরবাসী। সে দিন শহীদ হন নিয়ামত, হুরমত, মনু খলিফা আর আহত হন অনেকে। সারাদেশে সে দিন স্লোগান উঠেছিল ‘জয়দেবপুরের পথ ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে গাজীপুরবাসীর রয়েছে বীরত্বপূর্ণ ও গৌরবোজ্জ্জ্বল ভূমিকা। ২৫ মার্চ কাল রাত্রিতে পাক হানাদার বাহিনী বাঙালির উপর অতর্কিত হামলা করার পর মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে গাজীপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ছাত্র, শ্রমিক-জনতা ভারতে চলে যান। ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে তারা এলাকায় এসে বিভিন্ন পয়েন্টে অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন। নভেম্বর মাসে এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের তৎপরতা জোরালোভাবে বৃদ্ধি পায়। এ সময় এলাকায় পাক হানাদার বাহিনীর অবস্থানের উপর মুক্তিযোদ্ধারা আক্রমণ চালায়।

৩ ডিসেম্বর সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে মুক্তিবাহিনী তাদের আক্রমণ আরও জোরদার করে। ১৩-১৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা গাজীপুরে সেনানিবাসে সম্মিলিতভাবে আক্রমণ চালায়। এতে পাক হানাদার বাহিনী একেবারে বির্পযস্থ হয়ে পড়েছিল। ফলে পাক বাহিনী গাজীপুর ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে যাবার মনস্থ করে।

গাজীপুর এবং সমরাস্ত্র কারখানা ও রাজেন্দ্রপুর অর্ডিন্যান্স ডিপো থেকে পাক হানাদাররা ঢাকার পথে চান্দনা চৌরাস্তায় জড়ো হতে থাকে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, টাঙ্গাইল থেকে পাক হানাদাররা মিত্র ও কাদেরিয়া বাহিনীর আক্রমণে টিকতে না পেরে ঢাকার দিকে পিছু হটতে থাকে। তারা টাঙ্গাইল সড়ক যোগে পিছু হটে চান্দনা চৌরাস্তায় একত্রিত হতে থাকে। পিছু হটার সময় তারা কড্ডা বিজটি পুরো ধ্বংস করে দেয়। ফলে পিছু ধাওয়াকারী মিত্র ও কাদেরিয়া বাহিনী কোনাবাড়ী হয়ে কাশিমপুরে অবস্থান নেয়।

চান্দনা চৌরাস্তায় জড়ো হওয়া পাক হানাদার বাহিনীর বিরাট একটা কনভয় ঢাকার দিকে রওনা দেয়। পথে ছয়দানা এলাকায় পৌঁছলে কাশিমপুর থেকে মিত্র ও কাদেরিয়া বাহিনী তাদের উপর কামান ও মর্টারের শেল নিক্ষেপ করতে থাকে। একই সঙ্গে সড়কের দুই পার্শ্বে প্রবল গুলিবর্ষণে পাক হানাদার বাহিনী একেবারে বিপর্যস্থ  হয়ে পড়ে। ধ্বংস হয় ট্যাংক, কামান, মর্টার, যানবাহন ও গোলাবারুদ। হতাহত হয় অসংখ্য পাক সেনা।

মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ঢাকার কাছে এটাই ছিল পাক হানাদার বাহিনীর সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। পাক বাহিনীর উপর গোলাবর্ষণ ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। পাক হানাদার বাহিনীর পর্যদস্থ হওয়ার ফলে মূলত ওই দিনই গাজীপুর মুক্ত হয়। প্রতি বছরই নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এ দিবসটি পালন ও শহীদদের স্মরণ করা হয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্ত হওয়ার বিষয়টি আনন্দের। আমরা পাকাস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের এক দিন আগেই মুক্ত হতে পেরেছি। এ মুক্তি আমাদের মধ্যে আনন্দের বার্তা বয়ে এনেছিল।

গাজীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সাবেক এমপি কাজী মোজাম্মেল হক বলেন, গাজীপুর হানাদার মুক্ত হওয়ার খবরটি পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম। গাজীপুরের সর্বশেষ ছয়দানা যুদ্ধে তার মুক্তি বাহিনীর গ্রুপও অংশগ্রহণ করেছিল। তাই সে যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে গাজীপুর মুক্ত হওয়া নিঃসন্দেহে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।
                         
আমিনুল ইসলাম/আরএআর/আরআইপি