ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ফেরিতে যাত্রী বসার জায়গা দখল করে ভাতের হোটেল

প্রকাশিত: ০৪:৩১ এএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬

পাটুরিয়া থেকে ফেরিতে করে দৌলতদিয়া যাচ্ছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব আছমা বেগম। মাঝ পদ্মায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু কোথাও বসে একটু বিশ্রাম নেয়ার জায়গা পাননি। নিচে বসিয়ে তার মাথায় পানি দিচ্ছেলেন মেয়ে লামিয়া আক্তার।

বসার জায়গা না থাকায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে চলাচলকারী ইউটিলিটি ফেরিতে যাত্রীদের এমন দুর্ভোগ আর ভোগান্তি পেহাতে হয় প্রতিদিন। যাত্রী বসার জায়গা দখল করে এসব ফেরিতে গড়ে ওঠেছে অবৈধ ভাতের হোটেল।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানা গেছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটে ৬টি ইউটিলিটি ফেরি চলাচল করে। এসব ফেরি আকারে ছোট হওয়ায় ভেতরে শুধুমাত্র চা-পান বিক্রির জন্য একজন ইজারাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এজন্য সরকার রাজস্ব পাচ্ছে দৈনিক মাত্র ৩২০ টাকা।

Paturia

অথচ এসব ইজারাদাররাই চা-পান বিক্রির নামে যাত্রীদের বসার জায়গা দখল করে রীতিমত ভাতের হোটেল চালাচ্ছে। নীয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইজারাদাররা অবৈধভাবে ভাতের হোটেল চালালেও, কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। ইজারাদারদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের যোগসাজসেরও অভিযোগ রয়েছে।

ফেরি যাত্রী আকরাম হোসেন জানান, ইউটিলিটি ফেরিতে গাড়ি ওঠার পর হাঁটা-চলার জায়গা থাকে না। যাত্রীদের কোনো সুযোগ সুবিধা নেই এই ফেরিতে। ছোট্ট একটু বসার জায়গা তাও দখল করে ভাতের হোটেল চলছে। বিষয়টি যেন দেখার কেউ নেই।

আরিফ মিয়া নামে আরেক যাত্রী জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে ফেরিতে। অথচ যাত্রী হয়রানি আর ভোগান্তি বন্ধে কর্তৃপক্ষ উদাসিন। চোখের সামনে যাত্রীদের বসার জায়গা দখল করে হোটেল চলছে কিন্তু কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এর মানে এর সঙ্গে কর্তৃপক্ষের যোগসাজস রয়েছে।

Paturia

চা-পান বিক্রির অনুমতি নিয়ে ভাতের হোটেল চালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদারের এক ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা মালিকের নির্দেশে কাজ করি। ভাতের হোটেল যে অবৈধ তাও জানি না। বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তারাও কোনো দিন ভাতের হোটেল বন্ধ করতে বলেননি।

বিআইডব্লিউটিসির জেনারেল ম্যানেজার শেখ মোহাম্মদ নাসিম জাগো নিউজকে জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তেই ইউটিলিটি ফেরিতে চা-পান বিক্রির জন্য একজন ইজারাদার নিয়োগ দেয়া হয়। অবৈধভাবে ভাতের হোটেল চালানোর বিষয়টি তাদের জানা আছে। ইজারাদাররা স্থানীয় হওয়ায় ভাতের হোটেল বন্ধে একাধিবার উদ্যোগ নিয়েও সফল হননি তারা।

এদিকে, রো-রো ও কে-টাইপ ফেরিতে বিআইডব্লিউটিসির কর্মচারীদের মাধ্যমে ক্যান্টিন (ভাতের হোটেল) পরিচালিত হলেও, সেখানে খাবারের অতিরিক্ত দাম নেয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। খাবারের মূল্য তালিকা টাঙানোর নিয়ম থাকলেও কোনো ফেরিতেই তা পাওয়া যায়নি।

এফএ/এমএস