ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জেলা পরিষদ নির্বাচন : বন্ধু এখন প্রতিদ্বন্দ্বী

প্রকাশিত: ০২:২১ পিএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬

মানিকগঞ্জ পৌরসভার গত নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রমজান আলীর পক্ষে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. গোলাম মহিউদ্দিন ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। কিন্তু জেলা পরিষদ নির্বাচনে গোলাম মহিউদ্দিনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই রমজান আলী। দুই রাজনৈতিক বন্ধুই এখন প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কালো টাকা আর প্রভাব বিস্তারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনে ভোটের মাঠকে উত্তপ্ত করছেন এই দুই প্রার্থী।

গোলাম মহিউদ্দিনের অভিযোগ করে বলেন, রমজান আলীর সম্বলই কালো টাকা। টাকা দিয়ে ভোটার ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন তিনি।

পাল্টা অভিযোগ করে রমজান আলী বলেন, আমার যদি কালো টাকা হয় তাহলে তার (গোলাম মহিউদ্দিনের) টাকা ঝিম কালো। তিনি বরং টাকা ও ক্ষমতা ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন।

রোববার রিটানিং অফিসার বরাবরে এই সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী রমজান আলী। এতে অভিযোগ করা হয় মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম আচরণবিধি ভঙ্গ করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন গোলাম মহিউদ্দিন (আনারস)। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক মেয়র রমজান আলী (মোবাইল ফোন)।

এছাড়াও রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও গণফোরামে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মফিজুল ইসলাম খান কামাল (প্রজাপতি), অ্যাড. বজলুর হক খান রিপন (কাপ পিরিচ) এবং কাজী রফিকুল ইসলাম (তালগাছ)।

ভোটার, রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে গোলাম মহিউদ্দিন ও রমজানা আলীর মধ্যে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দলের প্রতি বিশ্বস্ততা ও সংগ্রামী পরিচিতি থাকলেও অতীতে গোলাম মহিউদ্দিনের ভোট ভাগ্য তেমন সুখের নয়। একাধিকবার দলের মনোনয়ন পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি।  অপরদিকে কোনো দলের প্রতি বিশ্বাসী না রেখে একাধিকবার দল পাল্টিয়েছেন রমজান আলী। তবে রমজান আলীর ভোট ভাগ্য বেশ অনুকূলে।

হরিরামপুর উপজেলা পর্যায় থেকে উঠে এসে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছেন গোলাম মহিউদ্দিন। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ছাত্রলীগের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সময় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছিলেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো দল ত্যাগ করেনি। দলের প্রতি বিশ্বস্ততার কারণেই মানিকগঞ্জ-২ আসনে ১৯৮৪, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। কিন্তু জিততে পারেননি। তবে সর্বশেষ মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক পদে দায়িত্ব পান।

অপরদিকে, ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু রমজান আলী। তবে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি দল বদলিয়েছেন। ৭৫`র পট পরিবর্তনের পর বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হলে তৎকালীন মন্ত্রী ক্যাপ্টেন হালিম চৌধুরীর হাত ধরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর জেনারেল এরশাদের আমলে ঢাকার তৎকালীন মেয়র কর্নেল মালেকের হাত ধরে তিনি যোগ দেন জাতীয় পার্টিতে।

আবার কর্নেল মালেক আওয়ামী লীগে যোগ দিলে রমজান আলী তার পিছু ধরেন। পৌরসভার একটি ওয়ার্ড সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে রমজান আলীর ভোটের রাজনীতিতে প্রবেশ। পরবর্তীতে তিন দফায় তিনি নির্বাচিত মেয়র হয়েছেন। পাশাপাশি দুই দফায় মেয়র পদে হেরেছেন। সর্বশেষ গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও হেরে যান তিনি।

এছাড়াও মানিকগঞ্জ-৩ আসনে একবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে এবং একবার উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত হন।

এবারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়াম্যান পদে গোলাম মহিউদ্দিন ও রমজান আলী ছাড়াও আওয়ামী লীগের সমর্থন চেয়েছিলেন সাবেক ফুটবলার দেওয়ান শফিউল আরেফিন টুটুল। দলের নির্দেশে টুটুল বসে গেলেও রমজান আলী বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন।

তবে জাগো নিউজকের সঙ্গে আলাপকালে রমজান আলী নিজেকে বিদ্রোহী প্রার্থী বলতে অস্বীকার করেছেন। তার ভাষায় এই নির্বাচন দলীয় ভাবে হচ্ছে না। দল একজনকে হয়তো সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু কাউকে নির্বাচন করতে নিষেধও করেনি।

অপরদিকে গোলাম মহিউদ্দিন বলেন, দলের নির্দেশেই তিনি নির্বাচন করছেন। দলের নির্দেশের বাইরে কোনো দিন যাননি, ভাবিষ্যতেও যাবেন না বলে তিনি জানান।

বি.এম খোরশেদ/এআরএ/আরআইপি