ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সাগরতীরে অসময়ের তরমুজ

প্রকাশিত: ০৪:০৩ পিএম, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৬

সাগর-পাহাড়ের মিতালীর মাঝ বরাবর পিচঢালা কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক। সড়কের কলাতলীর দরিয়ানগর থেকে পেঁচারদ্বীপ অংশের বালিয়াড়ির কিনার ঘেষে কয়েকদিন ধরেই বিক্রি হচ্ছে তরমুজ।

আকারে বড়, মিষ্টি স্বাদ ও টুকটুকে লাল তরমুজ অনেকে গাড়ি থামিয়ে কেটে খাচ্ছেনও। হিমছড়ি, বড়ছড়া, পেঁচারদ্বীপ, দরিয়ানগর এলাকায় উৎপাদিত হচ্ছে এসব তরমুজ। তবে অসময়ের ফল হওয়ায় দাম একটু চড়া।

হিমছড়ি এলাকার কৃষক আবদুল গফুর জানান, দরিয়ানগর ও হিমছড়ি পর্যটনকেন্দ্রের সামনে ৬০ শতক জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন তিনি। গত বছর পোকার আক্রমণে তরমুজ আশানরূপ উৎপাদন না হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েন। কিন্তু এবার বিশেষ যত্ন ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে।

আরেক চাষি কবির আহমদ বলেন, টেকনাফ, উখিয়া, সদর ও চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবে তরমুজের চাষ হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি-মার্চে এসব ক্ষেত থেকে তরমুজ পুরোদমে বাজারে আসবে। কিন্তু সৈকত পাড়ের এ তরমুজ আগাম বাজারে আসায় চড়া দাম পাওয়া যাচ্ছে।

দরিয়ানগর পর্যটন এলাকার রাস্তার পাশে তরমুজ বিক্রি করছেন আলী আকবর (৪২)। তিনি জানান, প্রতিদিন ১৫০-২০০টি তরমুজ বিক্রি করছেন। শীত মৌসুম হলেও নতুন ফল হিসেবে পর্যটক ও স্থানীয়রা তরমুজ কিনছে। তিন থেকে ১০ কেজি ওজনের তারতম্য অনুসারে পাইকারি ১৫০-১৮০ টাকায় কেনা তরমুজ ২০০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  

ক্রেতা আরিফুল ইসলাম টিপু বলেন, বাজারে আনা ফরমালিন ও বিষ মেশানো তরি-তরকারি ও ফল খেতে ভয় লাগে। এখানকার তরমুজ ক্ষেত থেকেই তুলে বিক্রি হওয়ায় কৃত্রিম কিছু মেশানোর আগেই নেয়া সম্ভব হচ্ছে।

মেরিন ড্রাইভ সড়ক ছাড়াও কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা, লালদীঘির পাড়, থানা সড়ক, বন বিভাগের সামনে, হাসপাতাল সড়ক ও পানবাজার সড়কে অন্তত অর্ধশতাধিক ফলের দোকানে অসময়ে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। তরমুজের দেখা মিলছে ঈদগাঁও, চকরিয়া, উখিয়া, লোহাগাড়াসহ কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়কের স্টেশন এলাকার ফলের দোকানগুলোতেও।

ঈদগাঁওর মৌসুমী ফল ব্যবসায়ী সেলিম উল­াহ বলেন, কলাতলী সৈকত এলাকা থেকে প্রতিদিন কয়েক ট্রাক তরমুজ চট্টগ্রাম ও ঢাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। আগাম ফল হিসেবে ভোজনবিলাসীদের কাছে কদর পাওয়ায় সেখানেও চড়া দামে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে বলে উলে­খ করেন তিনি।

কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যান তত্ত অফিসের কর্মকর্তা শাহাবউদ্দিনের মতে, বিগত কয়েক বছর ধরে সৈকতের বেশ কিছু এলাকায় কয়েকশ একর জমিতে তরমুজের আগাম চাষ হয়ে আসছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে চাষ হওয়ায় এবারও বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের আগের ফল হিসেবে দাম ভালো পাচ্ছে চাষিরা।

এমএএস/জেআইএম