চুক্তির অভাবে থেমে যাচ্ছে পাহাড়িদের জীবনধারা
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেন সরকারের আন্তরিকতার অভাবে চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যার কারণে পাহাড়িদের জীবনের গতিধারা থেমে যাচ্ছে। চুক্তি বাস্তবায়নে সরকার বলছে আন্তরিক; কার্যত তাতে রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি আছে।
শুক্রবার বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের ফরুক পাড়ায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ১৬ তম জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি মহল বহিরাগতদের দ্বারা পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করছে এবং গণমানুষের বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে- এক্ষেত্রে সরকার নির্বিকার।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি মস্তু মার্মার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক কে এস মং মার্মা, আঞ্চলিক পরিসদের সদস্য সাধুরাম ত্রিপুরা, আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য লয়েল ডেভিট বম, রুমা উপজেলা চেয়ারম্যান অংথোয়াই চিং মার্মা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি জ্যোতিষ্ময় চাকমা, হিল ইউমেন্স ফেডারেশনের সভানেত্রী ওয়াইচং প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন বাংলাদেশ বহুজাতি বহু সংস্কৃতির দেশ। শাসকগোষ্ঠী বাংলাদেশকে এক জাতি এক রাষ্টের দেশ হিসেবে দেখতে চায়।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য এলাকা থেকে সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার না করা, জেলা পরিষদ ও পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের আইনগত সাংঘর্ষিক অবস্থান, স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতা, ভূমি কমিশনের অকার্যকারিতা, ভূমি দখলে বাঙালি-উপজাতি বিপরীত অবস্থান, সেনা অবস্থানের পাশাপাশি রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবের বিষয়গুলো তুলে ধরেন সন্তু লারমা ।
তিনি বলেন পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ায় ইতোমধ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জনসংহতি সমিতি। এছাড়াও আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে ১ মে থেকে অসহযোগ আন্দোলনে পাহাড়ি যুব সমাজকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান সংগঠনটির এ নেতা।
এলএ/পিআর