ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শহীদ মিনারের এ কী হাল!

প্রকাশিত: ০৪:১১ এএম, ০৩ জানুয়ারি ২০১৭

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সদর ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা, কোচিং না করলে শিক্ষার্থীদের মারধর ও পরীক্ষার খাতায় নম্বর কম দেয়া, বিভিন্ন অযুহাতে অতিরিক্ত ফি আদায় ও শহীদ মিনারকে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত ও বাৎসরিক হিসেব নিকেশে গড়মিল দেখানো প্রমুখ।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা যায়, ৮৪নং মুশরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্র চন্দ্র সরকার বিগত ২০ বছর যাবৎ ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও আশানুরুপ শিক্ষার পরিবেশ পাচ্ছে না স্থানীয় দরিদ্র শিক্ষার্থীরা।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে টালবাহানা করে আসছেন বলে জানায় স্থানীয়রা। বিভিন্ন সময় নানা অনিয়ম করেও স্বপদে বহাল রয়েছেন রহস্যজনক লেনদেনের মাধ্যমে বলেও অভিযোগ তাদের।

বিদ্যালয় সূত্রে আরো জানা যায়, প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্র চন্দ্র সরকার প্রতিদিন সকাল ৯টায় শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে অবস্থান করার কথা থাকলেও নিজে বিদ্যালয়ে আসেন দুপুর ১২টায়। বিদ্যালয়ের পাশে বাড়ি থাকার অযুহাতে খাবারের কথা বলে নিজের কৃষি ফসলি জমি চাষ করেন বলেও রয়েছে অভিযোগ।

প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৪ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করাতে বাধ্য হলেও প্রধান শিক্ষক নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় ৩ জন শিক্ষক দিয়েই চলে পাঠদান। এতে সরকারি এ প্রতিষ্ঠান থেকে অভিভাবকরা মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে রবীন্দ্র চন্দ্র সরকার তার নিজ বাড়িতে শিক্ষার্থীদের স্কুল সময়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত কোচিং বাণিজ্য করেন বলে জানান স্থানীয় অভিভাবক পরিতোষ মন্ডল।

তিনি জানান, টাকার অভাবে মেয়েকে কোচিংয়ে ভর্তি না করায় গত বার্ষিক পরীক্ষায় চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ বিষয়ে ইচ্ছেকৃত অকৃতকার্য দেখিয়েছে।

একই বিদ্যালয়ের অপর অভিভাবক রফিকুল ইসলাম জানান, তার ছেলে রাফছানকে প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্র চন্দ্র সরকার তুচ্ছ অপরাধে বেত দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছে। শিক্ষকের ভয়ে কারো কাছে বিচার চাননি তিনি।

এদিকে, বিদ্যালয়ের মাঠে থাকা ভাষা শহীদদের জন্য নির্মিত শহীদ মিনারটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলার কারণে। শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারের পাদদেশে ময়লা আবর্জনা ফেলে রাখলেও শিক্ষকরা তাতে বাধা দিচ্ছেন না। পাশের বাড়ির বাথরুমটিও করা হয়েছে শহীদ মিনার ঘেষে। এতে চরমভাবে শহীদ মিনারের অবমর্যাদা করা হলেও প্রধান শিক্ষকের যেন দায় নেই।

তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি একাধিকবার প্রধান শিক্ষককে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন খোঁদ সভাপতি আব্দুল জলিল মেম্বার নিজেই।

এ সময় তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা ও কোচিং না করলেই শিক্ষার্থীর খাতায় নম্বর কম দেয়ার বিষয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা আমার কাছে অভিযোগ করে। পরে প্রধান শিক্ষকের কাছে বিষয়গুলোর সমাধান চাইলে তিনি রেগে  গিয়ে বলেন কোচিং না করলে শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করতে পারবে না তাই বাধ্য হয়েই কোচিং করাই।

সভাপতি আরো বলেন, প্রতি বছর বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসেব নিকেশেও গড়মিল দেখান তিনি। এরকম নানা অভিযোগের মুখে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্র চন্দ্র সরকারের অপসারণ দাবি করে বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে বাড়ি হলেও নানা অযুহাতে অনুপস্থিত থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বারোটা বাজাচ্ছেন তিনি।  

এ সময় অভিভাবক কামিজদ্দিন, উৎপল সরকারসহ স্থানীয় সচেতন মহল তার অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুনজর দানের দাবি জানান।
 
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ের কাজেই বিভিন্ন সময় উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসে দৌড়ঝাপ করতে হয়। বিধায় সময়মত ও নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না।

এসময় কোচিং বিদ্যালয়ে করানোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাড়িতে করান বলে জানান তিনি। শহীদ মিনারের ময়লার ভাগাড় পরিস্কার করে দেবেন বলেও জানান।
 
এসব বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, শহীদ মিনারকে ময়লার ভাগাড় তৈরি করা চরম অন্যায় ও বেআইনি। মুশরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম বিষয়ে জেনেছি। ঘটনা তদন্ত করে দোষী সাব্যস্থ হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে।

মীর আব্দুল আলীম/এফএ/এমএস