ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভোটের নেশায় নিঃস্ব এমপি প্রার্থী নবাব

জেলা প্রতিনিধি | চাঁপাইনবাবগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৮:৫২ এএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচন এলেই জায়গা-জমি বিক্রি করে প্রার্থী হন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা নবাব শামসুল হুদা। বারবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে তার পরিবারের জীবনযাত্রা চরম সংকটে পড়েছে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, নির্বাচনি ব্যয়ের চাপ সামলাতে গিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। সংসারের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

নবাব শামসুল হুদা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের পূর্বশ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে তিনি দুইবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে এবং ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। তবে কোনো নির্বাচনেই তিনি দেড়শ ভোটের বেশি পাননি। তবুও এবার বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়ন নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নবাব শামসুল হুদা বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছাতেই আমি বারবার নির্বাচন করি। জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে।’

নির্বাচিত হলে তিনি এলাকায় কিছু কালভার্ট ও সড়ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রচার-প্রচারণা চালাননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এজেন্ট রাখছেন না এবং প্রচারণা সামগ্রীও ব্যবহার করেননি। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় তিনি পাঁচ বিঘা কৃষিজমি ও ৯০ হাজার টাকা নগদ সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন। পেশা হিসেবে দেখিয়েছেন কৃষিকাজ।

স্থানীয়রা জানান, নির্বাচন এলেই তিনি জমি বিক্রি করে প্রার্থী হন। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে দিন দিন। এমনকি পরিবারের সদস্যদের ভোট দেওয়ার বিষয়েও তার রয়েছে কড়াকড়ি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে তার স্ত্রী সুলতানা বেগম প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

নবাবের স্ত্রী সুলতানা বেগম বলেন, আমার স্বামীর কোনো বিশেষ সম্পদ নেই। তিনি কৃষিকাজ করে সংসার চালান। কিন্তু তার একটাই নেশা— নির্বাচন। নির্বাচন এলেই তিনি যেন অন্য কিছু ভাবতে পারেন না। বারবার নির্বাচন হতে দেখে তিনি প্রতিবারই প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর আগেও তিনি অনেক নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, কিন্তু কোনো নির্বাচনে দেড়শ ভোটের বেশি পাননি। তারপরও তিনি থামেন না।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি জায়গা-জমি বিক্রি করেন। এতে আমাদের জীবনযাত্রা দিন দিন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। সংসার চলার মতো কিছু থাকছে না। আমি চাই তাকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখলে আমাদের সংসার শান্তিপূর্ণভাবে চলবে, কিন্তু তিনি সেটা মানতে চান না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের পরিবারে নিয়মিত অশান্তি ও ঝগড়া সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজল রানা জানান, আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকলে কোনো নাগরিকের প্রার্থিতা বাতিল করার সুযোগ নেই। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক আপত্তি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে।

সুশাসন বিশ্লেষক ও সুজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. আসলাম কবির বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশগ্রহণ নাগরিক অধিকার হলেও দেশের আইন ও বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

সোহান মাহমুদ/এফএ/এএসএম