ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

জনগণই আমাকে বহিষ্কার করতে পারে : আরিফ

প্রকাশিত: ০৩:০৩ পিএম, ০৪ জানুয়ারি ২০১৭

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, আমাকে জনগণ ভোট দিয়ে মেয়র বানিয়েছে। কেবল জনগণই আমাকে বহিষ্কার করতে পারে। তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক এ কথা বলেন।

দুই বছর পাঁচদিন পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরের কুমাড়পাড়ায় নিজ বাসায় ফেরেন আরিফ। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন এই বিএনপি নেতা।

আরিফ বলেন, সবার সহযোগিতা ও ভালোবাসায় আমি মুক্তি পেয়েছি। আমার মা অসুস্থ, আমি নিজেও অসুস্থ। আদালত এসব বিবেচনায় নিয়ে আমাকে জামিন প্রদান করেছেন।

জামিনে মুক্ত হওয়ার পরপরই আরিফুল হক চৌধুরী সরাসরি বাসায় না গিয়ে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন। এরপর বাসায় গিয়ে সাংবাদিকসহ তাকে দেখতে আসা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এক আদেশে আরিফুল হককে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে। ২০১৩ সালের ১৫ জুন সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আরিফ।

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হিসেবে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আরিফ। ওইদিন আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

দুই বছর ৫ দিন কারাভোগের পর তার বিরুদ্ধে করা চারটি মামলায় জামিন পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় কারামুক্ত হন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মাঝে গত বছরের ২৯ মার্চ থেকে অসুস্থ মাকে দেখার জন্য ১৫ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্ত ছিলেন।

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা এবং সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় বোমা হামলার দুটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান তিনি। এর আগে দুপুরে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয় আরিফুল হক চৌধুরীকে।

দ্রুত বিচার আদালতের পিপি কিশোর কুমার কর জানান, জেলা ও দায়রা জজ মনির আহমদ পাটোয়ারীর আদালতে তার উপর জারি করা প্রডাকশন ওয়ারেন্ট শুনানি শেষে তা প্রত্যাহার করার আদেশ দেওয়া হয়। আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছার পরই মুক্তি দেওয়া হয় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাময়িক বরখাস্ত এই মেয়রকে।

সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ ১১ জনের নাম যোগ করে সংশোধিত সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

এরপর ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর ওই ১১ জনকে গ্রেফতার পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরোয়ানা জারির পর একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আরিফুল আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

২০০৪ সালের ২১ জুন দুপুরে দিরাইয়ে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলা হলে এক যুবলীগকর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন।

ওই ঘটনায় দিরাই থানায় করা হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় আরিফুলসহ ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ওই দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় আরিফুলকে।
    
ছামির মাহমুদ/ এমএএস/এমএস