ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পেঁয়াজের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও লোকসানে কৃষকরা

প্রকাশিত: ০৪:১৩ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭

এবছর পেঁয়াজ চাষে বাম্পার ফলন হলেও লোকসান গুনছেন শরীয়তপুরের কৃষকরা। গত বছর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে ক্ষতির সম্মূখীন হলেও এবছর তা পুষিয়ে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাজারে পেঁয়াজের দাম কম হওয়ায় জেলার হাজারো কৃষককে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ২ হাজার ৯৮৬ হেক্টর জমি পেঁয়াজ চাষের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল কিন্তু অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৩৮০ হেক্টর। শরীয়তপুর জেলার ছয়টি উপজেলাতেই কমবেশি পেঁয়াজের চাষ হয়।

তার মধ্যে সদর উপজেলায় ১৮২ হেক্টর, জাজিরা উপজেলায় ২ হাজার ২৩৬ হেক্টর, নড়িয়া উপজেলায় ৩৮০ হেক্টর, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ২৪৮ হেক্টর, ডামুড্যা উপজেলায় ৯৯ হেক্টর এবং গোসাইরহাট উপজেলায় ২৩৫ হেক্টর জমিতে  পেয়াঁজের চাষ করা হয়।

জাজিরা উপজেলার চৌকিদার কান্দি গ্রামের পেঁয়াজ চাষি লিয়াকত খলিফা বলেন, এ বছর পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু আমাদের উৎপাদিত পেঁয়াজের মান অনেক ভাল হওয়া সত্ত্বেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ইন্ডিয়া থেকে অল্পমূল্যে নিম্মমানের পেঁয়াজ আমদানি করছে। তাই এ বছর বাজারে পেঁয়াজের দাম অনেক কম।  

নড়িয়া রাজনগর ইউনিয়নের ঠাকুরকান্দি গ্রামের পেঁয়াজ চাষি আবুবকর মিয়া বলেন, তিনি চার বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছেন। উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করে তার বিঘাপ্রতি সাড়ে ১০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। চার বিঘা জমিতে তার লোকসান হয়েছে  ৪২ হাজার টাকা।

সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের সুবচনী গ্রামের পেয়াঁজ চাষি ইয়াকুব হাওলাদার বলেন, এ বছর আমি এক একর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেছি। পেঁয়াজের ফলনও ভাল হয়েছে। এখনো বিক্রি করিনি শুনেছি পেঁয়াজের দাম অনেক কম।

নড়িয়া উপজেলার পেঁয়াজ চাষি করিম ফকির বলেন, আমরা গরিব কৃষক। পেঁয়াজ চাষ করতে আমাদের অনেক খরচ হয়। সরকারের দেয়া ঋণের সুবিধা থাকলেও কৃষি ব্যাংক এবং সোনালী ব্যাংকে গিয়ে কোনো ঋণ সুবিধা পাইনি। তাই সুদে টাকা এনে পেঁয়াজ চাষ করেছি। যাতে একটু ভালোভাবে থাকতে পারি। কিন্তু এ বছর লোকসান গুনে সুদের টাকার চাপে আছি।

শরীয়তপুরের পালং বাজারসহ জেলার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

পালং বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রিংকু খান বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর পেঁয়াজের দাম কম। কৃষকদের কাছ থেকে আড়তের মাধ্যমে পাইকাররা পেঁয়াজ কেনেন। আড়তের খাজনা ও যাতায়াতের ভাড়া দিয়ে আমাদের কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ১৬ টাকা দাম পড়ে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. কবির হোসেনের সঙ্গে আলাপ কালে তিনি বলেন, এ বছর পেঁয়াজের আবাদের লক্ষমাত্রা ও উৎপাদন দুটিই ভাল হয়েছে। কিন্তু বাজারে পেঁয়াজের দাম কম।

ছগির হোসেন/এফএ/এমএস