ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বেনাপোল সোনালী ব্যাংকে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৬:৩২ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৭

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের সোনালী ব্যাংকে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। আমদানি-রফতানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যবসায়ী ও  প্রতিষ্ঠান এ অভিযোগ করেছেন। সোনালী ব্যাংকের এ শাখায় টাকা ছাড়া কোনো কাজ হয় না বলে তারা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আমদানি-রফতানির শুল্ক চালানের টাকা জমা দিতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে প্রতি চালানে ঘুষ দিতে হয়। ঘুষের টাকা না দিলে কর্তৃপক্ষ চালান জমা নেয় না। চালান প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ শত টাকা ঘুষ দিতে হয়। প্রতিদিন বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি ও ডিএমএর প্রায় তিন শতাধিক চালান জমা হয়। আর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক এ চালানের বিপরীতে ঘুষের অর্থ আদায় করতে থাকে। কেউ ঘুষ দিতে অস্বীকার করলে তাদের নানা ভাবে হয়রানি করা হয়ে থাকে বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা।

অপরদিকে সরকারি এ ব্যাংকে আমদানি-রফতানির টাকাসহ কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসায়ীরা অন্য ব্যাংক থেকে এ ব্যাংকে টাকা জমা দেন। ছেঁড়া কাটা টাকা গুণার কথা বলে উৎকোচ নেয়া হয় নির্দিষ্ট হারে।

তারপর পুর্নাঙ্গ অনলাইন ট্রানজেকশন সুবিধা না থাকায় ব্যবসায়ীরা পড়ছেন বিপাকে। কালেকশনের জন্য পে অর্ডার জমা দিলে তা কালেকশন করতেও উৎকোচ দিতে হয় নির্দিষ্ট হারে। উৎকোচ না দিলে কালেকশন হয়নি। কাল আসেন বলে গ্রাহকদের হয়রানি করা হয়ে থাকে। বেনাপোলের আমদানি- রফতানি বাণিজ্য থেকে এ ব্যাংক সরকারের রাজস্ব আদায়ে বড় একটি ভূমিকা রাখলেও গ্রাহকদের সুযোগ সুবিধার ব্যাপারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

ঢাকার পাসপোর্টযাত্রী রুখসানা, আমেনা, রুবেল, জুবায়ের জানান, তারা বিজিবি’র মাল আটকের (ডিটেনশন মেমো) পণ্য কাষ্টমস থেকে আনুষ্ঠানিক কাজ শেষে ব্যাংকে শুল্কের (ট্র্যাক্স) টাকা জমা দিতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জোর করে প্রতিজনের কাছ থেকে ২০০ করে টাকা নিয়ে টাকা জমা নেন।

এ ব্যাপারে বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সারাদেশে এক হাজার ২০৪টি সোনালী ব্যাংকের শাখা আছে। সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং সর্বোচ্চ গ্রাহক  দিয়ে থাকে।

উৎকোচের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা এখানে কোনো উৎকোচ বা ঘুষ নেই না। তবে আগে এখানে স্টাফ ছিল ৩০ জন। বর্তমানে ১৫ জন স্টাফ কাজ করছে। অতিরিক্ত কাজ করায় এবং সকাল থেকে সারাদিন কাজ করায় আমদানিকারকদের প্রতিষ্ঠানগুলো  নিজেরা সন্তুষ্টি হয়ে কিছু দিয়ে যায়। আমি ওসব দেখি না।

জামাল হোসেন/আরএআর/পিআর