ঘুষ নেয়ার সময় ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মকর্তা গ্রেফতার
ঘুষ নেয়ার সময় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উপ-সহকারী পরিচালক মজুমদার মো. মাহফুজুর রহমান ও উচ্চমান সহকারী সাজ্জাদুল ইসলামকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার শরীয়তপুর পৌরসভার রাজগঞ্জ ব্রিজ সংলগ্ন পালং উত্তর বাজার সুরুচি হোটেলে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার সময় তাদের গ্রেফতার করে দুদকের একটি দল।
দুদকের ঢাকা বিভাগের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বিশেষ দল এ অভিযান চালায়। ফরিদপুর কোর্ট পরিদর্শক বিজন কুমার রায় জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, গত ১ ডিসেম্বর পালং উত্তর বাজারের তুলি ফার্নিসারসহ ৭টি দোকান পুড়ে গেলে ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। তিনটি দোকানের ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা ইন্স্যুরেন্স করা ছিল। এ ক্ষতির জন্য ইন্স্যুরেন্সে আবেদন করেন ব্যবসায়ীরা।
আবেদন করলে ইন্স্যুরেন্স ফায়ার সার্ভিসের প্রত্যয়নপত্র চায়। সেই মোতাবেক শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের কাছে ব্যবসায়ীরা প্রত্যয়নপত্র চাইলে ব্যবসায়ীদের কাছে ঘুষ দাবি করেন ওই দুই কর্মকর্তা।
তুলি ফার্নিচারের মালিক হাকিম মাদবর, মেসার্স আরিয়ান এন্টার প্রাইজের মালিক আফজাল হোসেন, মেসার্স খান এন্টার প্রাইজের মালিক শাহিন খানের কাছ থেকে খরচ বাবদ ঘটনার দুই সপ্তাহ পর ১৮ হাজার টাকা নেন।
গত ১৯ জানুয়ারি আবারও তাদের কাছ থেকে ৩ পার্সেন্ট হারে ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ঘুষ নিতে আসেন। তার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যবসায়ীরা ২৫ হাজার টাকা দেন।
বিষয়টি দুদককে অবহিত করা হলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে ফাঁদ পাতা হয়। এতে ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের উপ-সহকারী পরিচালক মজুমদার মো. মাহফুজুর রহমান ও ভোলার উচ্চমান সহকারী সাজ্জাদুল ইসলাম হাতেনাতে ধরা পড়েন।
এরপর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ফরিদপুর, সহকারী পরিচালক এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে শরীয়তপুর (পালং মডেল) থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
দুদকের ঢাকা বিভাগের পরিচালক নাসিম আনোয়ার জাগো নিউজকে জানান, ব্যবসায়ীদের কাছে ঘুষ নেয়ার সময় তাদের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘুষ নেয়ার ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দুপুরের আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মো. ছগির হোসেন/এএম/এমএস