ফুলবাড়ীতে তুলার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় তুলার বাম্পার ফলনে চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। প্রতি বছর তুলা চাষে তাদের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। চলতি বছর সরকার চাষিদের বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান করে।
এছাড়াও অনুকূল পরিবেশ, পরিচর্যা এবং ভাল বীজের কারণে মাঠজুড়ে তুলার বাম্পার ফলন হওয়ায় আশাবাদী কৃষক।
জানা যায়, সরকারিভাবে চলতি বছর ফুলবাড়ী উপজেলার ৬ ইউনিয়নে তুলা চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ লক্ষে উপজেলা তুলা উন্নয়ন অধিদফতর ১৬০ হেক্টর জমিতে তুলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।
সে অনুযায়ী প্রণোদনা হিসেবে ৪১০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ পরবর্তী দেয়া হয় বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক। চাষের পরপরই বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে বিপাকে পড়েন কৃষকরা।
এ সময় প্রয়োজনীয় পরামর্শের ফলে ক্ষতি কাটানো সম্ভব হলেও প্রায় ৫০ হেক্টর জমির বীজ নষ্ট হয়ে যায়। মাঠে দণ্ডায়মান অবস্থায় থাকে ১১০ হেক্টর জমি। চাষিরা আষাঢ় মাসে তুলা রোপন করেন এবং চৈত্র মাসে কাটামাড়াই শেষে ফসল ঘরে তুলতে পারেন।
উপজেলার বালাটারী গ্রামের তুলাচাষী আবু তালেব (৫৬), দুদুল মিয়া (৩৬) ও কুরুষা ফেরুসা গ্রামের আকবর আলী (৪৫) বলেন, আগে তুলা চাষ করে আমরা অনেক লোকসানে পড়েছি। কিন্তু এবছর প্রশিক্ষণ ও সরকারি সুবিধা পাওয়ায় তুলার সঠিক পরিচর্যা করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ক্ষেতের যে অবস্থা আছে তাতে বিঘা প্রতি ১০-১২ মণ ফলন আশা করা যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কোনো ধরনের আপদ না হলে এখন পর্যন্ত এ উপজেলায় তুলার বাম্পার ফলন আশা করছি। কৃষকরা যাতে উৎপাদিত তুলার ন্যায্য মূল্য পায় সেজন্য সরকারিভাবে তুলা ক্রয়ের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নাজমুল হোসাইন/এএম/আরআইপি