ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আইনের আশ্রয়েই কমবে সাইবার ক্রাইম

প্রকাশিত: ০৬:৩৫ এএম, ২৫ জানুয়ারি ২০১৭

বরগুনা সদর উপজেলার গুলবুনিয়া গ্রামের দরিদ্র কিশোরী হাসি। পঞ্চম শ্রেণির চৌকাঠ পেরিয়ে সবে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠেছিল সে। গুলবুনিয়া গ্রামের বখাটে যুবক ইসা প্রায়ই উত্যাক্ত করতো হাসিকে। স্কুলে যাওয়া আসার পথে হাসিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় সে। এক সময় প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে ছোট্ট হাসি।

একদিন বাড়ির পাশের একটি নির্জন সেতুর উপর মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় হাসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি তোলে ইসা। পরে সেই ছবি ফাঁস করে দেয়ার কথা বলে প্রায়ই হাসিকে যৌন হয়রানি ও নির্যাতন করতে থাকে।

এরপর একদিন ইছার মোবাইল থেকে সেই ছবি চুরি করে নেয় ইছার বন্ধু একই গ্রামের বখাটে নয়ন (১৬)। এবার দরিদ্র কিশোরী হাসিকে মেনে নিতে হয় নয়নের নির্যাতনও। এখানেই শেষ নয়! মোবাইল ফোনের ছবির সঙ্গে আবারও হাত বদল হয় হাসি। হাসির জীবনে আসে তৃতীয় যুবক একই গ্রামের বখাটে সুমন (১৭)।

একদিকে লোক লজ্জার ভয় অন্যদিকে নির্মম যৌন নির্যাতন। ঘরে অসুস্থ প্রতিবন্ধী মা। আর দারিদ্রের টানাপোড়নে দিশেহারা রিকশাচালক বাবা। ভাই বোন সবাই ব্যস্ত নিজ নিজ সংসারে। একসময় আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় সে। একাকী এক রাতে ঘরের আড়ায় ঝুলে আত্মহত্যা করে হাসি।

আত্মহত্যা করে বেঁচে গিয়েছিল হাসি। কিন্তু প্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার বরগুনার প্রায় দুই শতাধিক নারী আত্মহনন থেকে নিজেকে রক্ষা করলেও, লোক লজ্জা আর পরিবারে বঞ্চনা তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাদের। কেউ কেউ আবার ঘর-বাড়ি ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন অচেনা অজানা শহরে। প্রযুক্তির অপব্যাহার তাদের কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার একটি স্টুডিওতে সাইবার অপরাধের শিকার এক নারী জাগো নিউজকে বলেন, দুই দুইবার বিষ খেয়েও মরতে পারিনি। কী করমু? স্বামী সন্তান ছেড়ে তাই ঢাকা চলে এসেছি। আগে আমার পরিবার ছিল! ছিল সংসারও। এখন আমার কেউ নেই। কিছু নেই।

এ বিষয়ে উপকূলীয় উন্নয়ন সংস্থা জাগো নারীর প্রধান নির্বাহী হোসনে আরা হাসি জাগো নিউজকে বলেন, দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের দ্রুত প্রসারের সঙ্গে বাড়ছে সাইবার অপরাধও।

তিনি আরো বলেন, সাইবার অপরাধের শিকার অধিকাংশই নারী। অপরাধীরা এসব নারীদের হয়রানি করেই ক্ষান্ত হয় না। হাতিয়ে নেয় টাকা পয়সা ও স্বর্ণালংকারও।

তিনি আরো বলেন, সাইবার অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আনার জন্য দেশের সাইবার অপরাধের আইনগুলো যুগোপযোগী করার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ ট্রাইবুনাল এর সংখ্যা বৃদ্ধি করা জরুরী বলেও জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ পর্যন্ত বরগুনায় যতগুলো সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটেছে, সে তুলনায় মামলার সংখ্যা খুবই কম।

বরগুনা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে বরগুনায় সাইবার অপরাধে মামলা হয়েছে মাত্র চারটি। সাইবার অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় না নেয়ায় দিন দিন এ অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলেছে বলে মত সচেতন মহলের।

সাইবার অপরাধ আইন ও এ অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে ধারণা না থাকায় মানুষের আইনের আশ্রয় নেয়ার প্রবণতা কম জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. হাসান তারিক পলাশ জাগো নিউজকে বলেন, সাইবার অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীরা যদি আইনের আশ্রয় নেয় তাহলে এ অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব।

ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুযোগে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে অপরকে ব্ল্যাকমেইল করলে এ ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন অনুযায়ী সর্বচ্চো শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এ অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীরা যত বেশি আইনের অশ্রয় নেবেন তত বেশি এই অপরাধের বিস্তার কমবে।

স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে এই অপরাধের প্রবণতা বেশি জানিয়ে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যাবহারের মধ্য দিয়ে এসব অপরাধ বেশি সংঘঠিত হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে সাইবার আপরধের শিকার ভূক্তভোগীরা বিটিসিএল এর সহযোগিতার পাশাপাশি আইনের আশ্রয় নিয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হলে এ অপরাধের মাত্রা হ্রাস করা সম্ভব।

এফএ/এমএস