ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আঙুল নেই তবুও এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তানিয়া

প্রকাশিত: ০২:৫৬ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

তানিয়া খাতুনের দুই হাতে নেই স্বাভাবিক মানুষের মতো কোনো আঙ্গুল। ডান হাতে একটি বৃদ্ধাঙ্গুলি আছে। হাঁটা চলা স্বাভাবিক। তবুও সে প্রতিবন্ধী। তবে প্রতিবন্ধীতা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তার কাছে।

তানিয়া ফুলবাড়ি সদর ইউনিয়নের নাগদাহ গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। উপজেলার পূর্ব চন্দ্রখানা হাইস্কুল থেকে অদম্য ইচ্ছা শক্তির কারণে প্রতিবন্ধী তানিয়া এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে। নির্দিষ্ট কোনো স্বপ্ন না থাকলেও ভালো কিছুর বাসনায় পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে সে।

বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ২ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দিচ্ছে তানিয়া। তার রেজি: নং-১৪১৭৬৯৯৮৮৫, রোল নং-৪৯২৪৫৪ সেশন-২০১৫/১৬।

বৃহস্পতিবার বাংলা প্রথমপত্রে অন্য পরীক্ষার্থীদের মতোই স্বাভাবিকভাবে মনোযোগ সহকারে পরীক্ষা দিচ্ছে তানিয়া। জন্ম থেকেই দুই হাতের আঙ্গুল নেই তার।  নিজের শরীরের অপূর্ণতা থাকা সত্বেও নিজ ইচ্ছাশক্তিতে সহপাঠীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুই হাতের কবজ্বি দিয়ে লিখছে সে। মাঝে মধ্যেই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য ও শিক্ষকেরা তার সুন্দর দুই হাতের কবজি দিয়ে লেখা দেখে অবাক হচ্ছেন।

পরীক্ষার হলে তানিয়া জানায়, কষ্ট লাগছে তবুও আনন্দের সঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রস্তুতি মোটামুটি ভালো।

তানিয়ার বাবা তোফাজ্জল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, দুই সন্তানের মধ্যে তানিয়া খাতুন বড়। ছোট ছেলেটি প্রাইমারি স্কুলে পড়ছে। তানিয়া জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী।  ছোট বেলা থেকে তার লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে অবাক হয়েছি। অভাবের সংসারে তানিয়াকে খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করাচ্ছি। বসত ভিটা ৫ শতক জমি ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। কোনো রকমে সংসার চলে।

তানিয়ার মা মর্জিনা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, তানিয়াকে প্রতিবন্ধী বলতে খুব কষ্ট হয়। মেয়ের লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে তখনই সিদ্ধান্ত নেই, যতই কষ্টই হোক মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ করবো।

কেন্দ্র সচিব ও বালিকা বিদ্যালয়ের প্রাধান শিক্ষক কানাই চন্দ্র সেন জাগো নিউজকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তানিয়াকে পরীক্ষায় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে  অতিরিক্ত ২০ মিনিট বেশি দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও তানিয়ার কোনো সমস্যা যেন না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।

আরএআর/পিআর