৩০০ বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করলেন গ্রামবাসী
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় স্বেচ্ছাশ্রমে ১৭২ ফুট বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছে গ্রামবাসী। পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পৌর এলাকার ভুরঘাটা-চাউলাপাড়া এলাকায় গাংনাই নদীর ওপর সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মাণের ফলে আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে।
শনিবার দুপুরে সাঁকোটি যৌথভাবে উদ্বোধন করেন শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক ও শিবগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ সাবু।
এলাকাবাসী জানায়, ভুরঘাটা ও চাউলাপাড়া গ্রাম দুটিকে ভাগ করে রেখেছে গাংনাই নদী। নদীর ওপারের চাউলিয়াপাড়া, পূর্ব জাহাঙ্গীরাবাদ,পানাতিয়া পাড়া ও চাঁদনিয়া শিবগঞ্জসহ চারটি গ্রামের মানুষদের উপজেলা সদরে আসতে তিন কিলোমিটার পথ ঘুরতে হতো। সেতুর অভাবে তারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল।
জনদুর্ভোগের এই চিত্র জানার পর পৌর মেয়র উদ্যোগ নেন সেখানে বাঁশের সাঁকো নির্মাণের। উদ্যোগ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন উপজেলা ছাত্রলীগ, আশার আলো যুব সমবায় সমিতি, চাউলাপাড়া আনসার-ভিডিপি ক্লাব ও পাওয়ার বয়েজ স্পোটিং ক্লাবের নেতাকর্মী এবং গ্রামবাসী।
৩০ জানুয়ারি শুরু হয় নির্মাণকাজ। নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী স্বেচ্ছাশ্রমে নেমে পড়েন কাজে। এদের মধ্যে কেউ দিয়েছেন বাঁশ, কেউ দিয়েছেন দড়ি, লোহা, কাঠ, আবার কেউ দিয়েছেন শ্রম। এভাবেই গত পাঁচদিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ হয়েছে ১৭২ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকো।
পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ভুরঘাটা মহল্লার বাসিন্দা আবু সাঈদ জানান, এ সাঁকোটি নির্মাণে তিন শতাধিক বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। যার সবই জনগণ স্বেচ্ছায় দান করেছেন।
চাইলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আকবর আলী জানান, সাঁকোটি নির্মাণের ফলে গাংনাই নদীর দুই পাড়ের লালদহ, কালিপাড়া, ভুরঘাটা, নাটমরিচাই, চাউলিয়াপাড়া, পূর্ব জাহাঙ্গীরাবাদ, পানাতিয়াপাড়া ও চাঁদনিয়া শিবগঞ্জের প্রায় ১০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিজ্জাকুল ইসলাম রাজু জানান, ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মী নিজে বাঁশ কেটে কাঁধে করে বয়ে এনে সাঁকোটি নির্মাণে সহযোগিতা করেছে। ভালো কাজে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে।
শিবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক জানান, গাংনাই নদীর ওপর স্থায়ী সেতু নির্মাণের মতো আর্থিক সক্ষমতা পৌরসভার নেই। এজন্য জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় মানুষদের সহায়তা নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।
সাঁকো নির্মাণের ফলে এখন আট গ্রামের ১০ হাজার মানুষ কম সময়ে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে পারবে। সেই সঙ্গে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন।
লিমন বাসার/এএম/আরআইপি
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ চাঁদপুরে ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
- ২ মহাসড়কে ট্যাংকলরি থেকে তেল চুরির ভিডিও ভাইরাল
- ৩ যুবদল নেতা কামাল হত্যা, বিএনপি-যুবদল নেতাসহ ৬ জনকে আসামি
- ৪ স্বাধীনতার অনেক আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি বলেই নতুন প্রজন্মকে রক্ত দিতে হয়
- ৫ ফেসবুক পোস্ট নিয়ে মারামারি, ভাইয়ের হাতে কৃষকদল নেতা নিহতের অভিযোগ