ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

৮শ বছরের কুড়িখাই মেলার প্রধান আকর্ষণ বড় মাছ

প্রকাশিত: ০২:৪১ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

ঢাকার মগবাজার এলাকার ব্যবসায়ী দীপু ইসলাম। স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি এসেছেন। তার শ্বশুরবাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে।

সিঙ্গাপুর প্রবাসী রফিকুল ইসলামও শ্বশুরবাড়ির দাওয়াতে এসেছেন। তবে শ্বশুরবাড়ি না গিয়ে দুজনই ঘুরছেন মাছের বাজারে!

দীপু আর রফিকুলের মতো হাজারো মানুষ ভিড় করছেন কটিয়াদীর কুড়িখাই মেলায় বসা মাছ বাজারে। এ বাজার থেকে মাছ না কিনে তারা শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে যেতে পারছেন না! বছরের এ সময়টাতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেয়ের জামাইয়ের বেড়াতে আসার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। তারা বেড়াতে যাবেন সঙ্গে মেলা থেকে কেনা বিশাল সাইজের বড় মাছ নিয়ে। কে কত বড় মাছ কিনতে পারলো, এ নিয়ে শুরু হয় রীতিমতো প্রতিযোগিতা!

বছরের প্রতি মাঘ মাসের শেষ সোমবার থেকে পরবর্তী সাতদিন কটিয়াদীর মুমুরদিয়া ইউনিয়নের একটি মাজার সংলগ্ন এলাকায় বসে কুড়িখাই মেলা। এটি বসছে ৮০০ বছর ধরে।

kishoreganj

আধ্যাত্মিক সাধক শাহ শামসুদ্দিন বুখারী (রহ:) এর মাজারে ওরস উপলক্ষে গত সোমবার থেকে এ মেলা শুরু হয়। সাত দিনব্যাপী ব্যতিক্রমী এ মেলায় রকমারি পণ্য, নানা প্রজাতি আর বড় আকারের মাছ দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে। রীতি অনুযায়ী এ মেলা থেকে মাছ কিনে তবেই শ্বশুরবাড়ি যাবেন জামাইরা। মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে পুরো এলাকায়।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে মেলায় বসা মাছের বাজার। এলাকার রীতি অনুযায়ী, জামাইরা মেলা থেকে সবচেয়ে ভালো ও বড় আকারের মাছটি কিনে তবেই যাবেন শ্বশুরবাড়ি। তাই দেশের নানা এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। আর দাম যাই হোক হাতের কাছে বিশাল আকারের তাজা মাছ পেয়ে খুশি ক্রেতারাও।
    
জানা গেছে, প্রায় ৮০০ বছর আগে ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য জেলার কটিয়াদী উপজেলার কুড়িখাই এলাকায় আসেন হজরত শাহ শামসুদ্দিন আওলিয়া সুলতানুল বুখারী (রহ:)। তিনি ছিলেন ১২ আউলিয়াদের একজন। আধ্যাত্মিক সাধক শাহ শামছুদ্দীন বুখারীর মাজারে ওরসকে ঘিরে প্রতি বছর মাঘ মাসের শেষ সোমবার থেকে সপ্তাহব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়।

kishoreganj

খেলনা, বাতাসা, মুড়ি-মুড়কি, প্রসাধনী, কাঠের আসবাবপত্র, হাড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে সব কিছুই মিলবে এ মেলায়। সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত হাজারো আগন্তুকের ভিড়ে মুখর থাকে মেলা প্রাঙ্গন। কেউ নাগর দোলায় চড়ছেন, কেউ দেখছেন কার রেস। কেউবা মত্ত কেনাকাটায়। অনেকে আসছেন প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে। কিনছেন পছন্দের জিনিস। আর মেলায় আসা শিশুদের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে মেলায় আগত, বাউল সাধকদের আধ্যাত্মিক গানে-সুরের মূর্ছনায় সৃষ্টি করছে এক ভিন্ন আবহ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাজার প্রাঙ্গনে জড়ো হয়েছেন কয়েক’শ বাউল সাধক। তারা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করছেন। করছেন জিকির আসকার। কেউবা মাজারে মানত করছেন। মোমবাতি-আগর বাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, শাহ শামসুদ্দিন আওলিয়া সুলতানুল বুখারী (রহ:) এর প্রতি।
   
মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মেলায় প্রতিদিন লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। তাই মেলার সার্বিক শৃংখলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মেলায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পাশাপাশি মাজার কমিটি ও এলাকার স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে।

কুড়িখাই মেলায় শেষ দু’দিন অনুষ্ঠিত হবে বউ মেলা। ওই দু’দিন দিন মেলায় কেনাকাটা করতে আসবেন শুধু নারীরা।  মেলা শেষ হবে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি।

এমএএস/জেআইএম