ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আ.লীগ অফিস এখন সেলুন!

প্রকাশিত: ১০:০০ এএম, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

যশোরের মণিরামপুরের মশ্মিমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিস নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

এক পক্ষের দাবি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি-সম্পাদক দলীয় কার্যালয়কে সেলুন ঘর হিসেবে ভাড়া দিয়ে অর্থবাণিজ্য করছেন। তবে অপরপক্ষের দাবি, দলীয় কার্যালয় নির্মাণাধীন। এ জায়গা কাউকে ভাড়া দেয়া হয়নি।

এনিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন মশ্মিমনগর আওয়ামী লীগের একাংশ। ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলামের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মশ্মিমনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পারখাজুরা বাজারে আওয়ামী লীগের কার্যালয় রয়েছে। দলীয় কার্যালয়ের একাংশ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউসুফ আলী ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সেলুন ঘর করার জন্য স্থানীয় মহাদেব সরকার নামে এক ব্যক্তিকে ভাড়া দিয়েছেন। বাকী অংশ বিএনপির দলীয় কর্মী মনছুরকে দোকানঘর হিসেবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

monirampur
বিষয়টি জানার পর গত ৩ ফেব্রুয়ারি দলীয় কার্যালয় দখলমুক্ত করেন নেতাকর্মীরা। পরে ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় প্রভাবশালী হাবিব খান, কাবিল খান, মশ্মিমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফ আলী ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

এতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোকলেছুর রহমান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক নুরুজ্জামান গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মজিদ, মণিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ কাজী মাহামুদুল হাসানসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় হামলাকারী ও দলীয় কার্যালয় দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মশিয়ার রহমান, সহ-সভাপতি আবদুল আলীম গাজী, আমজেদ গাজী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সরদার, মশ্মিমনগর ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি এম মামুন উর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক মোকলেছুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মণিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, আওয়ামী লীগের অফিস কাউকে ভাড়া দেয়া হয়নি। খাস জমি মনছুর দখল করেছে। তার জমির সঙ্গে আওয়ামী লীগের অফিস করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের অফিস ও মনছুরের দোকানের ভিত্তি এক সঙ্গে করা হয়েছে। আর সেটি মনছুর নিজে করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মনছুর গত সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের যোগ দিয়েছে। সে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়। আর সেলুন ঘর করার জন্য ভাড়া দেয়া হয়নি। বর্তমানে আওয়ামী লীগ অফিস নির্মাণাধীন। সেখানে হাটবারের দিন ভ্রাম্যমাণ সেলুনকর্মী মহাদেব সরকার চেয়ার পেতে বসতে পারে।

মিলন রহমান/আরএআর/পিআর