ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

যশোরে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ছিল ৯ রাজাকার

প্রকাশিত: ০৪:০৩ এএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

যশোর সদর উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ে ৫৭ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে রাজাকার রয়েছেন ৯ জন। আর নতুন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ৪২ জন। যদিও অন্তর্ভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৮শ জন।

রোববার রাতে যশোর সদর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের এই চিত্র প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত এই তালিকা সদর উপজেলা পরিষদের নোটিশ বোর্ডে টানানো হয়েছে।
 
যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাজেক আহমেদ, সদস্য সচিব ইউএনও পঙ্কজ ঘোষ, সদস্য নজরুল ইসলাম চাকলাদার, আলী হোসেন মণি, আব্দুস সাত্তার ও মোহাম্মদ আলী স্বপন।

প্রকাশিত তালিকায় মোট ৫৭ জনকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জনের নাম ভারতীয় লাল মুক্তিবার্তায় রয়েছে। যদিও সবমিলিয়ে যাচাই বাছাইয়ে অভিযোগ ছিল ২০৯ জনের বিরুদ্ধে।

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় যশোর পৌরসভার ১১ জন রয়েছেন। এরা হলেন, যশোর পূর্ব বারান্দিপাড়ার সিরাজুল ইসলাম (গেজেট নম্বর ৩১৯), আব্দুল ওয়াদুদ, (গেজেট নম্বর ৭১৩), পৌরসভা ঢাকা রোডের ২ নম্বর সেক্টরের মৃত মহিউদ্দীন আহমেদ, (গেজেট নম্বর ৭৩২), ডাক্তার মমতাজ (গেজেট নম্বর ৭৩৭), ঘোপ জেল রোডের সৈয়দ মোস্তাক আলী (গেজেট নম্বর ২১৮৪), লোন অফিস পাড়ার রবিউল ইসলাম (গেজেট নম্বর ২১৮২),বুক প্যালেস দড়াটানার বজলুর রহমান (গেজেট নম্বর ২৭৯৫), পুরাতন আশরাফ আলী (গেজেট নম্বর ৭৩৫), পূর্ব বারান্দী পাড়ার অধির কুমার বিশ্বাস (গেজেট নম্বর ৭৫০),শহীদ শেখ আবু তালেব সড়ক কাজী পাড়ার সেলিম সরদার (গেজেট নম্বর ২১০৪) ও জেল রোডের সোহরাব হোসেন।

যশোর সদর উপজেলার ৩৩ জনের মধ্যে হৈবতপুর বালিয়াঘাটার রবিউল হক (গেজেট নম্বর ২৭৮৬), নওয়াপাড়া কাশিমপুরের আমজাদ আলী (গেজেট নম্বর ৯৪৭), নতুন উপশহরের মৃত শফিয়ার রহমান (গেজেট নম্বর ৮৯৭), নওয়াপাড়ার স্বপন কুমার (গেজেট নম্বর ৯২৩), নওদাগ্রামের আহম্মদ আলী (গেজেট নম্বর ৮৮১), মৃত আশরোপ আলী (গেজেট নম্বর ৮৬৬), বাহাদুরপুরের আতিয়ার মোল্যা (গেজেট নম্বর ৯১৭), বিরামপুরের লিয়াকত আলী (গেজেট নম্বর ৯২২), নওদাগ্রামের আব্দুল জলিল (গেজেট নম্বর ৯১২), বাহাদুরপুরের সামছুল ইসলাম (গেজেট নম্বর ৮৭৭)।

নুরজাহান, আবু জাফর, তালবাড়িয়ার ফসিয়ার রহমান (গেজেট নম্বর ৯০০), মৃত আবু বকর সিদ্দিক, হাশিমপুরের মৃত আব্দুল মতলেব (গেজেট নম্বর ৮৪৩), নওদাগ্রামের কেএম হারুন অর রশিদ (গেজেট নম্বর ৮৯৪), জহুরপুর গোবরার বদর উদ্দীন (গেজেট নম্বর ৮১৩), দলেননগরের আবু তালেব বিশ্বাস (গেজেট নম্বর ৮০১), শর্শনাদহের মোমিন উদ্দীন, লেবুতলার আব্দুল খালেক (গেজেট নম্বর ৮১১), লেবুতলা ফুলবাড়ির ওয়াজেদ আলী (গেজেট নম্বর ৭৯৯)।

লেবুতলার আতিয়ার রহমান (গেজেট নম্বর ৮২৩), নওয়াব আলী, আজাহার আলী, ফতেপুর হামিদপুরের মৃত আলতাফ হোসেন (গেজেট নম্বর ১০৮৪), মৃত আকবর আলী (গেজেট নম্বর ১০৬৭), চাঁচড়া গোয়ালদাহের আরশাদ আলী (গেজেট নম্বর ২০৯৮), চাঁচড়ার মৃত মিজানুর রহমান (গেজেট নম্বর ১০৫৫), তালবাড়িয়ার গোলাম সরোয়ার (গেজেট নম্বর ৮৯৬), ডাকাতিয়ার হাবিবুর রহমান (গেজেট নম্বর ৯৫২), শ্যামনগরের মৃত মোজাহার আলী (গেজেট নম্বর ৯৬৪), মৃত মোজাহার আলী (গেজেট নম্বর ৯৬৪) ও নতুন উপশহরের গোলাম মোস্তফা (গেজেট নম্বর ২১৪৩)।

এছাড়া লাল মুক্তি বার্তা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনাক্ত হয়েছে ৪ জন। এদের মধ্যে ভারতে এবং দেশের মধ্যে কোথাও প্রশিক্ষণ না নিয়ে লেবুতলা এনায়েতপুরের আব্দুল মতলেব, বাবার নামের জায়গায় চাচার নাম ব্যবহার করে জালিয়াতি করেছেন পৌরসভার শংকরপুরের নজরুল ইসলাম সুফি, যশোর দৌলতদিহির খোজারহাটের দালাল আইন মামলায় অন্তর্ভুক্ত আসামির ড্রাইভার এএসএম আজিজুর রহমান ও দালাল আইন মামলায় অন্তর্ভুক্ত এএফএম আব্দুর রশীদ।

রাজাকার হিসেবে অভিযুক্তের তালিকা অনুযায়ী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনাক্ত হয়েছেন ৯ জন। এরা হলেন, হৈবৎপুরের লাউখালির রহিম হাওলাদার, নিশ্চিন্তপুরের খোয়াজ উদ্দীন, দৌলতদিহির মোশারফ হোসেন, লেবুতলার মনোয়ারুল, খোজারহাটের সাকাত আলী, লেবুতলার সিরাজুল ইসলাম, সমসপুরের ইসলাম গাজী ও  শ্যামনগরের মোশাররেফ। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে বারান্দী পাড়ার রাজাকারের ছেলে নাছিম আহমেদ।

এদিকে, নতুন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নীলগঞ্জের শওকত আলী, ষষ্টীতলার মৃত সৈয়দ রবিউল হক, মিশনপাড়ার আফসার উদ্দীন, সার্কিট হাউজ পাড়ার হোসনে আরা বেগম, বেজপাড়া পিয়ারীমোহন রোডের ডাক্তার রেজাউল করিম, শহীদ মশিউর রহমান সড়কের মৃত শামছুর রহমান, আব্দুল আজিজ রোডের শামাসুন নাহার, নীলগঞ্জ তাতীপাড়ার আব্দুর রহিম, রাজারহাটের মৃত আব্দুল মালেক, কাজী পাড়ার আলতাফ হোসেন, নাজির শংকরপুরের আব্দুল ওহাব, ঢাকারোড ঘোষ পাড়ার আলমগীর হোসেন, ষষ্টীতলা পাড়া পিটিআই রোডেরঅসীত কুমার রায়, কাজীপাড়ার সাইফুজ্জামান পিকুল, বগচরের বিকাশ রঞ্জন দে।

আরবপুর ইউনিয়নের খোলাডাঙ্গার শেখ রবিউল ইসলাম, তালবাড়িয়ার আকরাম হোসেন, উপশহরের আব্দুল হান্নান, নওয়াপাড়া বোলপুরের মৃত আমজেদ হোসেন, রাজারহাটের আলাউদ্দীন বিশ্বাস, কচুয়া দেয়া পাড়ার কাজী ফারুক শাহী, নুরপুরের ছিদ্দিক হোসেন, আবু বকর সিদ্দিক, চুড়ামনকাঠি দোগাছিয়ার রওশন আলী, ছাতিয়ান তলার কওছার আলী, চান্দ আলী, দোগাছিয়ার আব্দুল মান্নান, কমলাপুর গ্রামের আমজাদ হোসেন, ছাতিয়ান তলার মৃত আনোয়ার হোসেন, চুড়ামনকাঠির কার্তিক চন্দ্র রায়, নওদাগ্রামের বাবর আলী, সলুয়া বাজারের আবু বক্কার সিদ্দিক।

ছাতিয়ান তলার মৃত আব্দুল গণি, নতুন উপশহরের মৃত কামরুজ্জামান, ছাতিয়ান তলার অরবিন্দ বিশ্বাস, হৈবৎপুরের নাটুয়াপাড়ার দুধু মল্লিক মন্ডল, দেয়াড়ার হালসা গ্রামের ইছাহক আলী, দেয়াড়া ফরিদপুরের সুলতান আহমেদ মোড়ল, হালসা গ্রামের সোহরাব হোসেন, নরেন্দ্রপুরের বলরামপুরের এমএম আকরাম হোসেন ও বড় হৈবৎপুরের আব্দুল বারি।

যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাজেক আহমেদ জানান, সদর উপজেলা পরিষদে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয় ২৭ জানুয়ারি। যাচাই বাছাই শেষে রোববার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। কমিটি কর্তৃক সর্বসম্মতিক্রমে এ তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। যা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।  

মিলন রহমান/এফএ/এমএস