ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

টিফিনের বিস্কুট কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৫:০৪ এএম, ২০ মার্চ ২০১৭

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার নতুন অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশুদের জন্য সরকারের দেয়া টিফিনের বিস্কুট কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রতি মাসে এ বিস্কুট বিক্রি করে প্রধান শিক্ষক বাড়তি আয় করছেন প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোখলেছুর রহমান জানান, নতুন অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি সেলফে বিক্রির জন্য লুকিয়ে রাখা ১৬ কার্টন বিস্কুট পাওয়া যায়। এ নিয়ে এলাকায় শিক্ষার্থী অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরকার শিশুদের পুষ্টির অভাব পূরোণ ও শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচি চালু করে।কিন্তু অভিযোগ রয়েছে জেলার উলিপুর উপজেলার ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সিমু সুলতানা যোগদানের পর থেকে কৌশলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অতিরিক্ত দেখিয়ে প্রতি মাসে ২৫ থেকে ৩০ কার্টন বিস্কুট বেশি উত্তোলন করেন। পরে এসব বিস্কুট সুযোগ বুঝে দুর্গাপুর ও যতিনের হাট বাজার এলাকার বিভিন্ন পরিচিত দোকানে বিক্রি করে দেন।

বিষয়টি স্থানীয় লোকজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্কুলে এসে লুকিয়ে রাখা বিস্কুট উদ্ধার করে। পরে তা প্রধান শিক্ষকের জিম্মায় রাখা হয়।

অভিযোগে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিদ্যালয়টির স্টোর রুম থেকে অতিরিক্ত ১৬ কার্টনে ১৬শ প্যাকেট বিস্কুট পার্শ্ববর্তী রুমের সেলফে লুকিয়ে রাখার সময় স্থানীয় লোকজন দেখে ফেলে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি তা অস্বীকার করেন। এতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার সংগঠিত হয়ে স্কুলে তল্লাশি চালিয়ে এসব উদ্ধার করেন।

এ সময় প্রধান শিক্ষক, অন্যান্য শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। বিস্কুটের স্টক রেজিস্ট্রারে হালফিল (সঠিক) পেলেও অন্য একটি রুমে লুকিয়ে রাখা ১৬ কার্টন অতিরিক্ত বিস্কুট পাওয়া যায়। যা কালো বাজারে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল বলে সবার অভিযোগ।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক সিমু সুলতানা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।

অভিভাবক আল ইমরান মানিক অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক সিমু সুলতানার বাড়ি ফরকেরহাট কৈকুড়ি এলাকায়। সে শিক্ষার্থীদের এসব বিস্কুট দুর্গাপুর, যতিনেরহাট, ফরকেরহাট ও কৈকুড়ি এলাকায় পরিচিত জনদের কাছে প্যাকেট প্রতি ৫-৬টাকা দরে বিক্রি করেন। তার এ দুর্নীতির ব্যাপারে একাধিকবার শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তৌফিকুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, শনিবার তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।

নাজমুল হোসেন/এফএ/জেআইএম